কলকাতা: প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসে নরেন্দ্র মোদি যে ক’টি ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প চালু করেছেন, সেই তালিকায় অন্যতম অটল পেনশন যোজনা। সাধারণ মানুষকে সামাজিক সুরক্ষা দিতেই এই প্রকল্প চালু হয়েছিল। মাসিক প্রিমিয়াম মাত্র ৪২ টাকা থেকে শুরু। উপভোক্তার বয়স ৬০ বছর পেরলেই মাসে মাসে পেনশন পাওয়ার কথা এক হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত। স্কিমটি বাজারে আসার পর সাড়াও মিলেছিল ভালো।
কারণ, কেন্দ্র ঘোষণা করেছিল—পেনশন সংক্রান্ত যে কিস্তির টাকা মেটাতে হবে গ্রাহককে, তার একটা অংশ সরকার নিজে বহন করবে। কিন্তু কয়েক বছর পেরতে না পেরতেই সেই অটল পেনশন যোজনার বেহাল দশা। দেখা যাচ্ছে, অনেকেই মাঝপথে ছেড়ে দিয়েছেন স্কিম। এখনও পর্যন্ত এই প্রকল্পে দেশজুড়ে নথিভুক্ত গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ৭ কোটি ২৬ লক্ষ। তাঁদের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ১১ লক্ষ ৫৭ হাজার উপভোক্তাই আর এই সামান্য প্রিমিয়ামের বোঝাটুকু টানতে পারেননি। মাঝপথে হাল ছেড়েছেন। পশ্চিমবঙ্গে এই যোজনায় গ্রাহক প্রায় ৫৫ লক্ষ ৭৭ হাজার। তাঁদের মধ্যে ৯ লক্ষ ৫ হাজারের বেশি মানুষই আর স্কিমটি চালিয়ে নিয়ে যেতে অপারগ। সামগ্রিকভাবে ১৫ শতাংশের বেশি গ্রাহক মাঝপথে ছেড়েছেন প্রকল্প।
কিন্তু কেন দেশের এক কোটির বেশি উপভোক্তা এই অটল পেনশন যোজনা চালিয়ে যেতে পারলেন না? স্কিম ছাড়ার সময়ে লিখিতভাবে কারণ জানাতে হয় গ্রাহককে। সরকারি তথ্যই বলছে, বেশিরভাগ উপভোক্তারই যুক্তি, প্রকল্প চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো টাকা তাঁদের কাছে নেই। আর সেই প্রেক্ষিতেই চর্চায় উঠে এসেছে ভর্তুকি বন্ধের বিষয়টি।
প্রকল্পটি জনপ্রিয় করতে প্রথম পাঁচ বছর ভর্তুকি দিয়েছিল কেন্দ্র। ২০১৫-১৬ থেকে ২০১৯-২০ অর্থবর্ষ পর্যন্ত। তবে তা পেয়েছেন কেবলমাত্র ২০১৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে ওই প্রকল্পে যোগ দেওয়া উপভোক্তারা। ওই পাঁচ বছরে মেটানো মোট কিস্তির ৫০ শতাংশ অথবা ১ হাজার টাকা— এই দুয়ের মধ্যে যেটি কম, সেই অর্থ ভর্তুকি হিসেবে তাঁদের দিয়েছিল সরকার। তবে সেজন্যও বেশ কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছিল। ভর্তুকি উঠে যেতেই প্রকল্পে এসেছে ভাটা।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন