কলকাতা: বাঘাযতীনে ফ্ল্যাটের মধ্যে বৃদ্ধার অগ্নিদগ্ধ দেহ উদ্ধারের ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। বুধবার দুপুরে মালবিকা মৈত্র (৭২) নামে ওই বৃদ্ধাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। খোঁজ নেই মালবিকাদেবীর ছেলে অভিষেকের। ফ্ল্যাটের দরজা বাইরে থেকে তালাবন্ধ থাকায় প্রাথমিকভাবে পুলিসের অনুমান, বিছানায় শয্যাশায়ী মাকে শ্বাসরোধ করে খুন করার পর তাঁকে পুড়িয়ে দিয়েছে ছেলে। ঘটনার পর তার খোঁজ না মেলায় এবং মোবাইল বন্ধ থাকায় ছেলের প্রতি সন্দেহ দৃঢ হয়েছে তদন্তকারীদের।
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মালবিকাদেবীর স্বামী অনেকদিন আগেই মারা গিয়েছেন। তাঁর দুই মেয়ে ও এক ছেলে। ছেলেকে নিয়ে তিনি বাঘাযতীনের বিবেকানন্দ পল্লিতে ভাড়া থাকতেন। প্রতিবেশী অভিনব ঘোষের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে মালবিকাদেবী অসুস্থ। বিছানা ছেড়ে উঠতে পারেন না। অভিষেক একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কে চুক্তিভিত্তিক কাজ করত। মায়ের দেখভালের দায়িত্ব ছিল তারই। প্রতিদিন কাজে বেরিয়ে যেত সে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাকে বাড়ির বাইরে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু বুধবার সকালে তাকে কেউ বেরতে দেখেনি।
প্রতিবেশীদের বক্তব্য, বুধবার বেলা পৌনে একটা নাগাদ ওই ফ্ল্যাট থেকে ধোঁয়া বেরতে দেখে সকলে বাইরে বেরিয়ে আসেন। এলাকা ধোঁয়ায় ভরে যায়। এই সময় অভিনব পরিচিতদের নিয়ে ওই ফ্ল্যাটে হাজির হন। তাঁরা দেখেন তালা বাইরে থেকে বন্ধ। প্রতিবেশী জানিয়েছেন, সকলের উপস্থিতিতে দরজার তালা ও জানালার কাচ ভাঙা হয়। ভিতরে ঢুকে দেখেন বৃদ্ধা পড়ে রয়েছেন বিছানায়। গলার উপর বালিশ চাপা। পুরো দেহটাই পুড়ে গিয়েছে। আগুনে জ্বলে গিয়েছে বিছানাও। ঘরের ভিতর কেরোসিনের জার পাওয়া যায়। পাটুলি থানায় খবর গেলে হাজির হন অফিসাররা। আসেন লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগের অফিসাররাও। তাঁরা ঘরে ঢুকে ভালো করে পরীক্ষা করেন। দেখা যায়, ঘরের অন্য জিনিস পোড়েনি। মালবিকাদেবী যে বিছানায় শুয়েছিলেন, সেটিই কেবল পুড়ে গিয়েছে। বৃদ্ধার দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
তদন্তে নেমে বেশ কয়েকটি বিষয় ভাবাচ্ছে তদন্তকারীদের। প্রথমত, ঘটনার পর থেকেই অভিষেকের মোবাইল বন্ধ এবং দ্বিতীয়ত, দরজা বাইরে থেকে তালাবন্ধ। অন্যদিন কাছাকাছি গেলে ঘরে তালা দিত না ছেলে। কেবল দূরে গেলেই চাবি দিয়ে স্থানীয় কারও কাছে তা রেখে যেত। এদিন অভিষেক কখন বেরিয়ে গিয়েছিল, তা স্পষ্ট নয়। চাবি দিয়ে বেরিয়ে গেলেও সেই চাবি কাউকে দিয়ে যায়নি। তাই নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। পরিকল্পনা করে মাকে শ্বাসরোধ করে খুনের পর জ্বালিয়ে দিয়ে সে পালিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তাকে ধরা গেলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, মায়ের চিকিৎসার জন্য ভালো টাকা প্রতি মাসে খরচ হতো। তাই সম্ভবত টাকা পয়সা সংক্রান্ত সমস্যা চলছিল। সেই কারণে এই ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছে পুলিস।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন