বীরভূম: রাজ্যের খনি অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতি ভালো না থাকায়, দেউচা পাচামির তিন দিন ধরে বন্ধ হয়ে রয়েছে কয়লা খনির কাজ। স্থানীয় আদিবাসীদের লাগাতার আন্দোলনের কারণে এমন কার্য হয়ে চলেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেখানে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, আটক করা হয়েছে আদিবাসী নেতাদের।
বীরভূমের বোলপুরের দেউচা-পাচামির আদিবাসী অঞ্চলের মানুষেরা বিভিন্ন অভিযোগ জানায়। কিছু অঞ্চলের পুলিশ তাদের মারধরও করে থাকে। তাদের অভিযোগের মধ্যে অন্যতম হলো, যে কাজের পুরনো প্রজেক্টের সমস্যা এখনো পর্যন্ত মিটিয়ে দেওয়া হয়নি। বিরোধীদের মধ্যে সিপিএম এর সর্বভারতীয় সম্পাদক বিমান বসু জানিয়েছিলেন এই কয়লাখনির ফলে তিনি ক্ষতিগ্রস্থ হবেন। সুমীত বাগদিরা নিজেদের জমি, জঙ্গল ও জীবিকা বাঁচানোর জন্য একত্রিত হয়ে সঙ্ঘবদ্ধ হন।
বিভিন্ন উন্নয়ন সাঙ্গঠনিক জেলা সভাপতি সাগর হেমব্রম বলেন, “আমাদের নিজের ভিটেমাটি আছে, তাই নিজের ভিটেমাটি বাঁচানোর জন্য আমরা ও আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য লড়াই করছি। সরকার মুর্শিদাবাদের কাছে কিছু সিন্ডি সিন্ডিকেট পাঠিয়ে সুযোগের পথে উত্তোলনের পরিবেশ করছে। তাই আদিবাসী সমাজ একজোট হয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছে। আমাদের মারতে পারে বা যা ইচ্ছে তাই করতে পারে আমরা আমাদের জায়গা থেকে সরব হবো।”
গত ৫ ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন আদিবাসী সমাজের মূলমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি কয়লা খনি থেকে তাদের উন্নয়ন কেমন হবে তা জানানোর জন্য ইন্টারভিউয়ে ডেকেছিলেন। সেখানে তিনি বলেন, “যারা জমি দিয়েছেন তাদের ৬,৪০০ জনকে আমি ইতিমধ্যে চাকরি দিয়েছি এবং বাকি ২৫,০০০ মানুষকে পুনর্বাসন করা হবে। তাঁদের মনের মধ্যে কোনো দ্বিধা রাখবেন না। বিভিন্ন পুনর্বাসন কলোনি, বাড়ি, এবং জমি বিলিয়ে দেওয়া হবে, সবকিছু ভালোভাবে সম্পন্ন হবে। পুনর্বাসনের অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রী স্বীকার করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী আদিবাসী সমাজের উন্নতির অধিকারের কথা জানিয়েছেন, যাতে তারা ভালোভাবে বাঁচতে পারে।”
কিছু মানুষের ভেদে এখনো আদিবাসী নেতারা বোলপুর থেকে অভিযোগ জানায়, তার আগেই পুলিশ তাদের ধরে স্থানীয় পঞ্চায়েত অফিসে নিয়ে যায়। সিন্ধু হেমব্রম ও সুমিত বাউরি বলেন, “আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ এসে মারধর করে আটক রাখা হয়েছে। আমাদের অনেক রাস্তা অবরোধ করে রেখেছে। আদিবাসী মহিলাদের উপর ও অত্যাচার করা হচ্ছে।”
বোলপুরিয়া পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ অনুপম হাজরা বলেন, “আন্দোলনের কারণে আমাদের ক্ষতি হয়েছে। তবে সমস্যা সমাধানের জন্য আলোচনা করে দেখা হবে। আন্দোলনকারীরা কেন দেউচা-পাচামির কয়লা খনির ক্ষতি করছে, আদিবাসীদের পুনর্বাসন ভালোভাবে নিশ্চিত করতে হবে।” সব মিলিয়ে, আদিবাসী আন্দোলনের জেরে দেউচা-পাচামির কয়লা খনির কাজ বর্তমানে বন্ধের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতির উপরে নজর রাখছে পুলিশ, আদিবাসী নেতারা জানাচ্ছেন যেকোনো সময় তাদের গ্রেফতার করা হতে পারে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন