হুগলি নদীতে হাঙর, বাংলার নদীতে প্রথমবার খোঁজ মিলল ‘বুল শার্কে’র! - Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel is currently West Bengal's leading, popular, authentic and trustworthy digital media. Aaj Bikel News has become the voice of crores of readers and viewers.

মঙ্গলবার, ১১ মার্চ, ২০২৫

হুগলি নদীতে হাঙর, বাংলার নদীতে প্রথমবার খোঁজ মিলল ‘বুল শার্কে’র!

 


কলকাতা: বাংলার জীববৈচিত্রের সাফল্যের মুকুটে যোগ হল নয়া পালক। হুগলি নদীতে প্রথমবার দেখা গেল ‘বুল শার্ক’ নামে ১ প্রজাতির হাঙরকে। ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ার গবেষকদের এই তথ্য সামনে এসেছে। ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ার গবেষকরা ‘জার্নাল অফ ওয়াইল্ডলাইফ সায়েন্স’ জার্নালে এই গবেষণা তথ্য বের করেছেন।

হুগলি নদীর মোহনা থেকে ১৭০ কিলোমিটার দূরে হুগলির চাঁদনি ঘাটে বুল শার্ক ধরা পড়েছিল। জোয়ারের সময় মৎস্যজীবীদের জালে ধরা পড়ে ১টি বুল শার্কের শাবক। নমুনা সংগ্রহ করে সেটিকে জলে ছেড়ে দেওয়া হয়। সেই নমুনার ‘মরফোমেট্রিক’ পরীক্ষা করে ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ার গবেষকরা নিশ্চিত হন হুগলি নদীতে যে হাঙরের শাবক মিলেছিল সেটি ‘বুল শার্ক’ প্রজাতির। এই প্রথমবার বুল শার্ক মিলল হুগলি নদীতে। 

হাঙরের অতিরিক্ত শিকারের জন্য বুল শার্কের সংখ্যা এখন উল্লেখযোগ্য হারে কমছে। ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ার গবেষণা রিপোর্টে রয়েছে, অতিরিক্ত শিকারের পাশাপাশি কারখানার নোংরা জল ও শিল্প বর্জ্য নদী ও সমুদ্রের জলে মিশছে। পাশাপাশি বাসস্থানের সংখ্যা কমার জন্য কমছে বুল শার্কের সংখ্যাও। ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অফ নেচার (আইইউসিএন)-এর তালিকায় বুল শার্ককে বিপন্নজনক তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। সংরক্ষণের দাবি জানানো হয়েছে। গঙ্গায় এক প্রজাতির হাঙর (গ্যাঞ্জেস শার্ক) মেলে। তার সঙ্গে চেহারায় সাদৃশ্য রয়েছে  ‘বুল শার্কে’র৷   তাই নিখুঁতভাবে মরফোলজিক্যাল পরীক্ষার ওপর নির্ভর করেন গবেষকরা। 

গবেষণা রিপোর্টে রয়েছে, নদীর মিষ্টি জলের পাশাপাশি সমুদ্রের নোনতা জলেও থাকতে পারে বুল শার্ক। খাদ্য ও বাসস্থানের সন্ধানে দীর্ঘপথ পাড়ি দেয় এই প্রজাতির হাঙর। অন্য শিকারী হাঙররা সেভাবে না থাকায় ও প্রচুর খাবারের সন্ধান রয়েছে বলেই হুগলি নদীতে দেখা মিলেছে বুল শার্ক শাবকের। উষ্ণ উপকূলবর্তী অগভীর সমুদ্রর জলের পাশাপাশি নদীর জলে দেখা মেলে বুল শার্কের। অত্যন্ত আক্রমণাত্মক প্রজাতির হাঙর বলে পরিচিত বুল শার্ক। জলে থাকলে মানুষের দিকে তেড়ে এলেও এই প্রজাতির হাঙরের আক্রমণে মানুষের প্রাণ যাওয়ার সংখ্যা কিন্তু বছরে অত্যন্তই কম। নদীর মিষ্টি জলে বুল শার্ককে দেখা যায় বলে এই প্রজাতির হাঙরের আরেক নাম হল 'রিভার শার্ক'। সাধারণত বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, শঙ্করমাছ, সামুদ্রিক কচ্ছপ, জলজ পাখি আর ডলফিন রয়েছে বুল শার্কের খাদ্য তালিকায়। মেয়ে বুল শার্করা পুরুষদের চেয়ে আয়তনে বড়ো হয়। ওজন হতে পারে ৩১৫ কেজির মতো। মানুষের মতোই ভ্রুণ থেকে সরাসরি শাবকের জন্ম দেয় বুল শার্ক। গড়ে ১২-১৬ বছর বাঁচে বুল শার্ক। লাতিন আমেরিকার আমাজন নদীতেও দেখা মিলেছে বুল শার্কের। 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন