নয়াদিল্লি: জম্মু-কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদ দমন। মাওবাদ। উগ্র বামপন্থার নির্মূলকরণ। উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে জঙ্গিগোষ্ঠীর দাপাদাপি বন্ধে নেওয়া কেন্দ্রের পদক্ষেপ। শুক্রবার রাজ্যসভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের উপর আলোচনা শেষে প্রায় দু’ঘণ্টার জবাবি ভাষণে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বক্তব্যে প্রায় সমস্ত বিষয়।
এদিন রাজ্যসভার জবাবি ভাষণে একইসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে দেশ থেকে মাওবাদ সম্পূর্ণ নির্মূল হবে। জম্মু-কাশ্মীর হোক বা উত্তর-পূর্বের রাজ্য—সন্ত্রাসবাদ প্রসঙ্গে এদিন কংগ্রেসের কড়া সমালোচনা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। নাম না করে টেনে এনেছেন রাহুল গান্ধীকেও।
শাহ বলেন, কেউ কাশ্মীরে গিয়েছেন। বরফ দিয়ে হোলি খেলেছেন। তারপর বলেছেন, তিনি নাকি দূর থেকে সন্ত্রাসবাদীদের দেখতে পেয়েছেন। নজরে সন্ত্রাসবাদ থাকলে স্বপ্নেও আসবে, বাস্তবেও। আমরা সন্ত্রাসবাদীদের দেখতে পেলে তার দু’চোখের মাঝে সোজা গুলি করে। সিএএ, এনআরসি, বিএনএসের উল্লেখ করলেও জনগণনা নিয়ে অবশ্য কোনও মন্তব্য করেননি। সাম্প্রতিক ভাষা বিতর্কের উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিযোগ, ভাষাকে ব্যবহার করে দুর্নীতি এড়ানোর চেষ্টা করছেন অনেকে। বিভাজনের রাজনীতির চেষ্টা চলছে। হিন্দির সঙ্গে কোনও ভাষার বিরোধ নেই।
এদিন অমিত শাহের জবাবি ভাষণে অবশ্য আগাগোড়াই অনুপস্থিত ছিল তৃণমূল। প্রশ্নোত্তর পর্ব এবং প্রাইভেট মেম্বার্স বিল স্থগিত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের উপর আলোচনা শুরুর নির্দেশ দেন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান। আপত্তি তোলে তৃণমূল। দেওয়া হয় স্লোগানও। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের উপর আলোচনা শুরু হতেই ওয়াকআউট করে রাজ্যের শাসকদল। তৃণমূল সাংসদদের অভিযোগ, যে চারটি মন্ত্রকের উপর আলোচনা হয়েছে, তার মধ্যে সবথেকে কম সময় বরাদ্দ হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের জন্য। ২১ জন বক্তার জন্য পৌনে চার ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে। অথচ দু’ঘণ্টা ধরে সবথেকে দীর্ঘ ভাষণ দিয়েছেন অমিত শাহ। জবাবি ভাষণে বাংলার কোনও উল্লেখ তো দূর, আলোচনায় বক্তাদের তোলা কোনও ইস্যুর প্রসঙ্গ পর্যন্ত টানা হয়নি।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন