কলকাতা: ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা পার হতেই ভোটার তালিকায় গরমিলের অভিযোগে রাজ্যের নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হল তৃণমূল। একাধিক ব্যক্তির একই এপিক নম্বর থাকার ঘটনায় কমিশন ডিরেক্টরিজে ২ রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে একই ও নবরসিরিজ ব্যবহারের জন্য একটি আলাদা এপিক নম্বর দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার কমিশনের নির্দেশিকাকে হাতিয়ার করেই ফের সরব হয়েছে তৃণমূল।
তৃণমূলের রাজ্যসভা সংসদ সদস্য ডেরেক ও'ব্রায়েন, সাংসদ সাগিরিকা ঘোষ এবং কাইট কাটজু পালটা চ্যালেঞ্জ করে জানিয়েছেন, কমিশন ভুল স্বীকার করলেও এর দায়ভার নেবে না। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সারা রাজ্যে তথ্য না দিলে আইনের আশ্রয় নেওয়া হবে জানিয়েছিল তৃণমূল। একাধিক এপিক কার্ড নম্বর হিসেবে ওটি অক্ষর ও ৭টি সংখ্যা থাকে। নির্বাচন কমিশনের হ্যান্ডবুকের তথ্য তুলে ধরে তৃণমূলের রাজ্যসভার সদস্য সাগত পৌলের জানান, কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশিকা রয়েছে, প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য এই ওটি সংখ্যা আলাদা হয়। যেটিকে বলা হয় 'ফ্যাসশনাল ইউনিক সিরিয়াল নম্বর'। ফলে ২ টি বিধানসভা কেন্দ্রের একই এপিক নম্বর থাকা কখনোই সম্ভব নয়। অথচ কীভাবে বাংলার একাধিক ভোটারের এপিক নম্বর সঙ্গে গুজরাত, হরিয়ানা-সহ অন্য রাজ্যের ভোটারের এপিক নম্বর মিলে গেল? প্রশ্ন তুললেন সাকেত।
নির্বাচন কমিশন তৃণমূলের দাবির প্রেক্ষিতে জানিয়েছে, একই এপিক নম্বর হলেও সংশ্লিষ্ট ভোটার তার নিজের বুথে ভোট দিতে পারবেন। কমিশনের নির্দেশিকা তুলে ধরে সাকেত জানান, সংশ্লিষ্ট ভোটার তালিকায় ১ জন ভোটারের ছবি সঙ্গে তার এপিক নম্বর সংযুক্ত থাকে। কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী যদি ২ টি আলাদা রাজ্যের বাসিন্দাদের একই এপিক নম্বর হয় তাহলে যখন কোনো ভোটার ভোট দিতে যাবেন, ভোটার তালিকায় ছবি নাও মিলতে পারে। তৃণমূলের সংসদের দাবি, এরপরেও সংশ্লিষ্ট ভোটার যদি বিজেপিকে ভোট দেন তাহলে ছবি না মেলার জন্য তাকে ভোট দিতে দেওয়া না হতে পারে। এছাড়াও নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, অভিন্ন অ্যালফানিউমেরিক কোডের জন্য একই এপিক নম্বর হয়েছে একাধিক ব্যক্তির। কিন্তু কমিশনের হ্যান্ডবুকের নির্দেশিকা তুলে ধরে তৃণমূল জানিয়েছে, একই এপিক নম্বরে একাধিক ব্যক্তিকে দেওয়া না হয় সে জন্য নির্দিষ্ট সফটওয়্যার রয়েছে। এই সফটওয়্যার প্রতিটি বুথ ও অবস্থিত নম্বরের ওপর নজর রাখে। তাছাড়া ও সংশ্লিষ্ট কোডে সংশ্লিষ্ট ভোটারের ব্যক্তিগত তথ্য ও ছবি সংযুক্ত থাকে। সেই কারণেই এটিকে 'পার্মানেন্ট ইউনিক আইডি' হিসেবে ধরা হয়। সাকেতের বক্তব্য, কোনো ভুলের কারণে একই এপিক নম্বর একাধিক ব্যক্তিকে দেওয়া হয়েছে, এমন দাবিও বুদ্ধিগ্রাহ্য নয়। কমিশনকে এই অনিয়ম নিয়ে স্পষ্ট জবাব দেওয়ার দাবি জানিয়েছে তৃণমূল।
সাকেত বলেন, নির্বাচন কমিশনের দায়বদ্ধতা ও ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। কারণ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটিতেও ৩ জনের মধ্যে ২ জন হলেন প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। কমিশন যদি বিজেপির কাছে আত্মসমর্পণ করে তাহলে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের সম্ভাবনা শূণ্য। রাজ্যসভার তৃণমূলের আরেক সংসদ সাগিরিকা ঘোষ বলেন, 'এই মস্ত বড়ো কেলেঙ্কারি নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে তদন্ত করতে হবে, এর দায় নিতে হবে'।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন