রামপুরহাট: তারাপীঠের প্রধান রাস্তার দু-ধার ও ‘পাপ’ নাশক মোড়া জল মুক্ত করার জন্য তারাপীঠ শ্মশানে ১টি রিজার্ভার তৈরি করছিল জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতর। সেই জল পরিশ্রুত করে দ্বারকা নদীতে ফেলার কথা। পশ্চিমবঙ্গ পরিবেশ আদালতের আদেশে ওই কাজ হচ্ছিল বলে জানান তারাপীঠ-রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান সুকুমার মুখোপাধ্যায়। শ্মশানে পরিশ্রুত করে রিজার্ভার তৈরির বিরোধিতা করে আসছে বিজেপি। ২৯ ফেব্রুয়ারি বিজেপির তরফে শ্মশানে বিক্ষোভ দেখানো হয়। মাটি ফেলে কিছুটা কাজ শুরু করে দেওয়া হয় রিজার্ভারের গত।
২ দিন থেকে একই জায়গায় মাটি কাটার কাজ শুরু করে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতর। এর বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কাজ বন্ধ করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন বিজেপি কর্মী ও সমর্থকরা। নেতৃত্ব দেন ধ্রুব সাহা, জেলা সহসভাপতি রূপা মণ্ডল, বিজেপির মোটর জেলা সভাপতি সন্দীপ দে। এরপরেই তারাপীঠ থানার পুলিশ গিয়ে ধ্রুব সাহাসহ বিজেপি নেত্রীকে গ্রেফতার করে থানার নিয়ে যায়। বিজেপির দাবি, ধৃতদের নিঃশর্তে মুক্তি দিতে হবে। ঘণ্টাখানেক পর সবাইকে ব্যক্তিগত বন্ডে ছেড়ে দেওয়া হয়।
শ্যামা দাস বলেন, ‘বিষয়টি খুব চিন্তার। এভাবে বৈরাগ্যের সমাধি ধ্বংস করা উচিত নয়। আমরা এই নির্মাণের বিরোধিতা করছি।’ তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান সুকুমার মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘এই কাজ করছে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতর। পবিত্র মহাশ্মশানে ও দ্বারকা নদীতে যাতে দূষিত জল না পরে সেই জন্য রিজার্ভার তৈরি করা হচ্ছে। সেখানে জমা হওয়া জল পরিশ্রুত করে দ্বারকা নদীতে ফেলা হবে। এর ফলে দ্বারকার জলে দূষণ হবে না। এই মুহূর্তে হোটেল-লজের নোংরা জল সরাসরি নদীতে পড়ছে। ফলে জল দূষিত হচ্ছে। তাছাড়া পরিবেশ আদালতের আদেশে এই কাজ করা হচ্ছে। এই নির্মাণ করতে গিয়ে একটিও গাছ কাটা হবে না। ধ্বংস করা হবে না সমাধি। ‘
তারাপীঠের দূষণ সংক্রান্ত বিষয়ে ২০১৮ সালে জাতীয় পরিবেশ আদালতে একটি মামলা দায়ের হয়। সেই মামলার রায়ে আদালত ৭০টি হোটেল-লজকে চিহ্নিত করে জরিমানা করে। দূষণ রোধে সরকারকে একাধিক আদেশ দেয়।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন