নয়াদিল্লি: বিচারপতির বাংলোয় অগ্নিকাণ্ড। আর তখনই সেখান থেকে ১৫ কোটি টাকা উদ্ধারের খবর ছড়াল আগুনেরই গতিতে। সঙ্গে বিতর্ক। কারণ, এই অভিযোগ পৌঁছে গেল খোদ শীর্ষ আদালতের দরবারে। প্রশ্ন উঠল, দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি যশবন্ত ভার্মার বাড়ি থেকে ‘থরে থরে সাজানো টাকার বান্ডিল’ উদ্ধারের যে অভিযোগ উঠেছে, তা কি হিসেব বহির্ভূত?
ঘটনা ১৪ মার্চ, হোলির দিনের। রাত সাড়ে ১১টা। শহরে ছিলেন না বিচারপতি ভার্মা। এমন সময় তাঁর বাংলোয় আগুন লাগে। পরিবারের সদস্যরা তড়িঘড়ি পুলিস ও দমকলে খবর দেন। আর সেই আগুন নেভানোর পরই নাকি দমকলকর্মীরা টাকার হদিশ পান বলে অভিযোগ। সেই জলই গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। দেশের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়াম ইতিমধ্যেই অবশ্য বদলি করেছে বিচারপতি ভার্মাকে। তাঁকে দিল্লি হাইকোর্ট থেকে সরিয়ে ফের আগের কর্মস্থল এলাহাবাদ হাইকোর্টে পাঠানো হয়েছে। তাতে অবশ্য চিঁড়ে ভিজছে না।
সুপ্রিম কোর্টেরই একদল আইনজীবী ও বিরোধী দল কংগ্রেস দাবি তুলেছে, আরও কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে। সেই দাবি জোরালো হওয়ায় সুপ্রিম কোর্ট বিচারপতি ভার্মার বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্ত শুরুর নির্দেশও জারি করেছে বলে খবর। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে ওই বিচারপতিকে হয় ইস্তফা দিতে বলা হবে, নয়তো সংবিধানের ১২৪(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাঁকে পদ থেকে সরাতে সংসদে ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। বদলি নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে এলাহাবাদ হাইকোর্টের বার অ্যাসোসিয়েশনও। তাদের প্রশ্ন, এলাহাবাদ হাইকোর্ট ডাস্টবিন নাকি? কলেজিয়াম অনিয়মে অভিযুক্ত বিচারপতি ভার্মাকে ফের এলাহাবাদ হাইকোর্টে পাঠিয়ে দেওয়ায় তারা হতবাক। অবিলম্বে বিচারপতি ভার্মার বাংলো থেকে কত টাকা উদ্ধার হয়েছে তা প্রকাশ্যে আনার দাবি তুলেছেন বর্ষীয়ান আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিংও।
এলাহাবাদ হাইকোর্ট থেকেই ২০২১ সালের অক্টোবরে দিল্লি হাইকোর্টে এসেছিলেন বিচারপতি ভার্মা। ২২ বছরের কর্মজীবন। সেই নিরিখে এখন তিনি সেখানকার সিনিয়র বিচারপতিদের মধ্যে দ্বিতীয়। ঠিক এক বছর আগে, লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ১০০ কোটি টাকারও বেশি বকেয়া কর মামলায় কংগ্রেসের আর্জি খারিজ করে খবরের শিরোনামে উঠে এসেছিলেন।
সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়ামের তরফে জারি করা বিবৃতিতেও জানানো হয়, বিচারপতি ভার্মাকে এলাহাবাদ হাইকোর্টে বদলির সঙ্গে অভ্যন্তরীণ তদন্তের কোনও সম্পর্ক নেই। বিষয়টি নিয়ে শোরগোল হতেই অবশ্য শীর্ষ আদালতের কোর্টের একটি সূত্র থেকে জানানো হয়, বদলির নির্দেশ চূড়ান্ত পদক্ষেপ নয়। অভিযুক্ত বিচারপতির বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশও জারি হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন