কলকাতা: বাংলাদেশ নয়, খোদ রাজ্যের একাধিক স্থানে হিন্দু দেব-দেবীর মূর্তি ভাঙচুর ও মন্দিরে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে, এবং রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এই ঘটনার নিন্দা ও কড়া প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে নিজের সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যাকাউন্টে রাজ্য সরকারের কড়া সমালোচনা করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি তার পোস্টে, তমলুক ও বসিরহাটে মন্দির অবমাননার অভিযোগ তোলেন। শুভেন্দু লেখেন, 'শনিবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুক মহকুমার শ্রীরামপুরে একটি ক্লাবের পাশের হিন্দু দেবতার মূর্তিতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়েছে।
অন্যদিকে, উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট দক্ষিণ বিধানসভার অন্তর্গত শঙ্কচূড়া এলাকায় একটি কালী মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। দুষ্কৃতীরা মায়ের একটি হাত ভেঙে দিয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ, এলাকাটিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাসিন্দার সংখ্যা কম হওয়ায় বাইরের হিন্দুদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে, এমনকি সাংবাদিকদেরও ঘটনাস্থলে
যেতে দেওয়া হচ্ছে না।'
ঘটনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে নিজের সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টে তার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ডিজি এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের
ঘটনাগুলি ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিএনএস ২৯৫, ২৯৫ (এ), ১৫৩ (এ) এবং ৫০৬ ধারার আওতায় অপরাধ বলে গণ্য হয়। ধর্মীয় স্থান অবমাননা, সাম্প্রদায়িক উসকানি এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার জন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া
ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে, এই ধরনের ঘটনাগুলি রাজ্যের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিবেশ নষ্ট করতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রাজ্যে সাম্প্রদায়িক অশান্তি এড়াতে এবং ধর্মীয় স্থানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ
নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে কিনা, তা নিয়ে এখন নজর থাকবে প্রশাসনের ভূমিকার ওপর।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন