কলকাতা: হিন্দু শাস্ত্র মতে চৈত্র মাসে বিয়ে হয় না। কিন্তু, প্রেমের জোয়ার তো আর মাস মানে না। কখন কাকে কীভাবে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে কে-ই বা বলতে পারে! তার উপর সদ্য পলাশের আগুন ঝরিয়ে ফাগুন পেরিয়েছে। বাড়ির অমতে বিয়ে করতে হবে। তর আর সইছিল না। অতঃপর, ঘরছুট। কারও বাড়ির মেয়ে পলাতক। কারও বাড়ির ছেলে। চৈত্র মাসেই আইনি বিয়েটা সেরে নিতে চেয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু, বাদ সেধেছে ম্যারেজ পোর্টাল। রেজিস্ট্রারদের কাছে গিয়েও কাজ হচ্ছে না। পোর্টাল মেনটেন্সের কাজ চলছে। ১৫ মার্চ থেকে কাজ শুরু হয়েছে। কবে শেষ হবে, তা কারও জানা নেই। তবে আধিকারিকদের দাবি, বৈশাখ শুরু হওয়ার আগেই পোর্টাল মেনটেন্সের কাজ শেষ হয়ে যাবে। তা না হলে অনেকে ছাদনা তলায় গেলেও বৈধ বিয়ে করতে পারবেন না।
ম্যারেজ অফিসারদের একাংশের দাবি, চৈত্র মাসে সামাজিক বিয়ে না হওয়ায় তেমন সমস্যা হচ্ছে না। তবে অনেকেই এমাসে ম্যারেজ রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন করার সিদ্ধন্ত নিয়েছিলেন। তাঁদের সেই ইচ্ছে পূরণ হচ্ছে না। আরও সাতদিন তাঁদের রেজিস্ট্রেশনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
এক ম্যারেজ অফিসার জানান, কয়েক মাস আগে বিএ প্রথম বর্ষের এক ছাত্র ও ছাত্রী রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন করে রেখেছিলেন। ১৯ মার্চ রেজিস্ট্রেশনের দিন চূড়ান্ত হওয়ার কথা ছিল। সেই মতো তাঁরা আমার কাছে আসেন। কিন্তু, পোর্টাল কাজ না করায় তাঁদের রেজিস্ট্রেশন হয়নি। বৈশাখ মাসের শেষের দিকে ওই যুবতীর পরিবারের লোকজন অন্য জায়গায় তাঁর বিয়ের জন্য দিনক্ষণ ঠিক করেছে। তাতে তিনি রাজি নন। সেই কারণেই তিনি তাঁর পছন্দের মানুষের সঙ্গে রেজিস্ট্রি করে নিতে চাইছিলেন। কিন্তু, তাঁর ইচ্ছে পূরণ হল না। তাঁর মতো অনেকেই সমস্যায় পড়েছেন। তিনি আরও বলেন, বৈশাখ মাসে কয়েক হাজার পাত্রপাত্রীর বিয়ে রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী রেজিস্ট্রি করার এক মাস আগে নোটিস দিতে হয়। এভাবে পোর্টাল বন্ধ থাকলে অনেকে সময়ে কাজ করতে পারবেন না।
অন্যদিকে বাড়ির অমতে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রেমিক প্রেমিকাদের আরও কয়েকদিন মনের ইচ্ছে লুকিয়ে রাখতে হবে। আগে থেকে রেজিস্ট্রির জন্য আবেদন করেও তাঁদের তেমন লাভ হচ্ছে না।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন