বর্ধমান: গ্রামের পাড়ায় কান পেতে রয়েছেন গোয়েন্দারা। ‘আজ বসন্তের গায়ে হলুদ, কাল বসন্তের বিয়ে গো’ কিংবা সানাইয়ের সুর ভেসে আসলেই ছুটছেন তাঁরা। বিয়ে বাড়িতে ঢুকছেন ছদ্মবেশে। পিঁড়িতে বসে থাকা পাত্রীর বয়স নিয়ে খটকা লাগলেই ফোন যাচ্ছে ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকদের কাছে। ‘স্যার তাড়াতাড়ি চলে আসুন। কিছুক্ষণের মধ্যে পুরোহিত মশাই মন্ত্র পড়া শুরু করে দেবে’। ফোনের ওপার থেকে এমন ‘ইনপুট’ পেলে আর সময় নিচ্ছেন না আধিকারিকরা। তড়িঘড়ি তাঁরা বিয়ে বাড়িতে হাজির হয়ে যাচ্ছেন। নাবালিকাদের উদ্ধার করে আবার তাঁরা স্কুলে ফেরাচেছন।
এক আধিকারিক বলেন, করোনার পর থেকে নাবালিকাদের বিয়ে করার প্রবণতা বেড়ে গিয়েছিল। সেই কারণে বিশেষ কৌশল নিতে হয়েছিল। প্রথমে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে সচেতনতামূলক প্রচার করা হয়। জেলা প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা সেখানে হাজির হয়েছিলেন। সেই শিবিরের আড়ালে তাঁরা গ্রামে গ্রামে গোয়েন্দাদের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তাঁদের তৎপরতার জন্যই এই বসন্তে প্রায় ৩০০ নাবালিকার বিয়ে বন্ধ করা গিয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক আয়েশা রানি এ বলেন, নাবালিকাদের বিয়ে বন্ধ করার জন্য ওই এলাকার বাসিন্দাদের সহযোগিতা দরকার। তাঁরা তা করছেন বলেই সাফল্য পাওয়া যাচ্ছে। প্রত্যেক অভিভাবককে দায়িত্ব নিতে হবে। ১৮ বছরের আগে বিয়ে দিলে নানা সমস্যা হতে পারে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক দিনের মধ্যে আউশগ্রাম, কেতুগ্রাম, গলসিসহ বিভিন্ন এলাকায় নাবালিকাদের বিয়ে বন্ধ করা হয়েছে। কেতুগ্রাম থেকে সবচেয়ে বেশি সাফল্য এসেছে। কেতুগ্রাম-২ ব্লকে নাবালিকাদের বিয়ে করার প্রবণতা বেশি ছিল। এই ব্লকে প্রসূতিদের মধ্যে ২৭ শতাংশ ছিল নাবালিকা। এই তথ্য প্রশাসনের উদ্বেগ বাড়ায়। তারপরই নাবালিকাদের বিয়ে বন্ধ করতে একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। গোয়েন্দাদের ভূমিকায় কন্যাশ্রীদের পাশাপাশি এলাকার কিছু সচেতন ব্যক্তিও রয়েছেন। এছাড়া শিক্ষক-শিক্ষিকারাও সহযোগিতা করছেন। মঙ্গলবার বর্ধমান-১ ব্লকে এলাকার প্রধান শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে আধিকারিকরা বৈঠক করেন। কোনও ছাত্রী হঠাৎ করে স্কুলে আসা বন্ধ করলে তার সম্পর্কে খোঁজ নিতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে বাবা এবং মায়ের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা কোনও তথ্য গোপন করার চেষ্টা করলে প্রশাসনকে জানাতে বলা হয়েছে। তাঁরা নির্দিষ্ট নম্বরে ফোন করলে কিছুক্ষণের মধ্যেই আধিকারিকরা হাজির হয়ে যাচ্ছেন।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন