কলকাতা: শতাব্দীপ্রাচীন হাওড়া স্টেশনের চাপ দিনে দিনে বেড়ে চলেছে। অজস্র যাত্রীবাহী ট্রেনের পাশাপাশি পূর্ব ভারতে চলাচল করে, এমন বহু মালগাড়ি হাওড়া ডিভিশনের আওতাধীন লাইনে যাতায়াত করে। সব মিলিয়ে অগুনতি ট্রেনের চাপ সামলাতে হয় এই স্টেশনকে। ফলে লোকাল কিংবা দূরপাল্লার ট্রেন ঢোকা-বেরনোর পথে প্রায়শই হোঁচট খায়। যাত্রা শুরু বা প্রান্তিক স্টেশনে যাত্রা বিরতির আগে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হয় গুচ্ছ গুচ্ছ ট্রেন। হাওড়া স্টেশন পূর্ব রেলের অধীনে হলেও এখান থেকে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের একাধিক দূরপাল্লার ট্রেন চলাচল করে। এই ট্রেনগুলি সাধারণত যাত্রা শুরু করে ১৭ থেকে ২৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মের কোনও একটি থেকে। তবে এই ট্রেনগুলি হাওড়া স্টেশনে যাত্রা বিরতি করে যে কোনও প্ল্যাটফর্মে। তা সত্ত্বেও ট্রেনগুলি ঢোকানোর জন্য ফাঁকা প্ল্যাটফর্ম পেতে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষাই দস্তুর হয়ে উঠেছে। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে তৎপর হয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব রেল। তার জন্য হাওড়ার বিকল্প হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে শালিমার স্টেশনকে। বিশ্বমানের একাধিক যাত্রীবান্ধব পরিকাঠামো গড়ে তোলার পাশাপাশি ঢেলে সাজছে এই স্টেশন।
রেল সূত্রে জানা যায়, মূলত পণ্য পরিবহণ ব্যবস্থা উন্নত করার লক্ষ্যেই শালিমারকে টার্মিনাল স্টেশন হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছিল। কিন্তু দক্ষিণ-পূর্ব রেলের যাত্রীসংখ্যা গত কয়েক বছরে দ্বিগুনের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই চাপ সামলাতেই শালিমারকে উন্নত যাত্রী পরিষেবার উপযুক্ত করে গড়ে তোলার কাজে হাত দেওয়া হয়েছে। ১২ মিটার দৈর্ঘ্যের জোড়া ফুটব্রিজ তৈরি হবে। প্রথমটি ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে ২ ও ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মকে সংযুক্ত করবে। অন্য ফুটব্রিজটি ২ ও ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে ৪ এবং ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মের সেতুবন্ধন করবে। এছাড়া স্টেশন চত্বর মুড়ে দেওয়া হবে মজবুত কংক্রিটের রাস্তায়, যাতে স্টেশনে ঢোকা-বেরনোর পথে কোনও গাড়িকে সামান্য বাধা পেতে না হয়। গঙ্গার পাড়ের অংশে তৈরি হচ্ছে আধুনিক পার্কিং এরিয়া। সেখানে কয়েকশো গাড়ি আনায়াসে রাখা যাবে। এছাড়াও যাতায়াতের সুবিধার জন্য সাবওয়ে কিংবা আন্ডারপাস তৈরি হচ্ছে।
যাত্রীদের কথা মাথায় রেখে নয়া টিকিট কাউন্টার, লিফ্ট, এসক্যালেটর, ট্রাভেলেটর, র্যাম্প সহ বহু আধুনিক সুযোগসুবিধার ব্যবস্থা করা হচ্ছে শালিমার স্টেশনে। স্টেশনে পর্যাপ্ত জলের সরবরাহ নিশ্চিত করতে ২ লক্ষ গ্যালন ধারণ ক্ষমতার ট্যাঙ্ক তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। যাত্রী সুরক্ষায় গোটা এলাকা মুড়ে দেওয়া হবে সিসি ক্যামেরায়। উন্নত ‘পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেম’-এ যুক্ত করা হবে শালিমার স্টেশনকে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন