দেউচা-পাচামিতে ফের প্রতিবাদের আগুন, আদিবাসীদের গর্জনে খনন কাজ বন্ধ - Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel is currently West Bengal's leading, popular, authentic and trustworthy digital media. Aaj Bikel News has become the voice of crores of readers and viewers.

বুধবার, ৫ মার্চ, ২০২৫

দেউচা-পাচামিতে ফের প্রতিবাদের আগুন, আদিবাসীদের গর্জনে খনন কাজ বন্ধ

 


বীরভূম: বীরভূমের দেউচা-পাচামিতে কয়লা খনির কাজ বন্ধ করে দিল স্থানীয় আদিবাসী বাসিন্দারা। মঙ্গলবার সকাল থেকেই খনিতে নেমে বিক্ষোভ দেখান আদিবাসী মহিলারা। তাঁদের অভিযোগ, সরকার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করেনি, তাই তাঁরা আর খনি চাইছেন না। বিক্ষোভকারীদের প্রতিবাদে খননকাজে ব্যবহৃত জেসিবি ও পে লোডার মেশিনগুলির কাজ বন্ধ হয়ে যায় এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারা এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হয়। আদিবাসী রীতি অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে চড়কা কাটা হয়, যা ঐতিহ্যগতভাবে প্রতিবাদের প্রতীক। সরকারি ঘোষণা ও আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিত

গত ৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেউচা-পাচামিতে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম কয়লা খনির কাজ শুরু করার ঘোষণা করেন। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মানুষ এর বিরোধিতা সত্ত্বেও, ২ ফেব্রুয়ারি প্রশাসন এর উদ্যোগে খনন কাজ শুরু হয়। তবে, প্রথম থেকেই এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সরব স্থানীয় বাসিন্দারা, যাদের অধিকাংশই আদিবাসী।

বিক্ষোভকারী মহিলারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘আমরা খনি চাই না। সরকার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কিছুই করেনি। আমাদের জমি চলে গেলে আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ কী হবে? আমরা অন্য কোথায় গিয়ে নিজেদের জমির মতো জায়গা পাব না। তাই আমরা জমি ছাড়ব না।’ দেউচা-পাচামির কয়লা খনির গুরুত্ব

প্রায় ১,৪০০ একর জমি জুড়ে বিস্তৃত এই কয়লা খনিতে ১,২৮০ মিলিয়ন টন কয়লা মজুত রয়েছে, যা এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ কয়লা খনি। এই এলাকায় ২০টি গ্রাম রয়েছে, যেখানে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ বসবাস করেন। এছাড়া এখানে রয়েছে বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল, জলাভূমি ও চারণভূমি। কয়লার উপরে ৬৯৫ মিলিয়ন টন ব্যাসল্ট শিলার স্তর থাকায় খননকাজ অত্যন্ত কঠিন। সরকারের প্রতিশ্রুতি ও স্থানীয়দের আপত্তি

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জমিদাতাদের জন্য চাকরি, আর্থিক প্যাকেজেস অধিক ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করেছেন। তবে, স্থানীয় আদিবাসীরা নিজেদের ভিটেমাটি ছাড়তে রাজি নন। তাঁদের দাবি, সরকার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার কিছুই বাস্তবায়িত হয়নি।

এদিন সকাল থেকেই বিক্ষোভে অংশ নেন শতাধিক আদিবাসী মহিলা। তাঁরা খনিতে ঢুকে খনন কাজ বন্ধ করে দেন। জেসিবি ও পে লোডারগুলি খনি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। প্রশাসনের কর্মকর্তারা এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হয় এবং আদিবাসী প্রথা অনুযায়ী চড়কা কাটা হয়, যা তাঁদের প্রতিবাদের অংশ।

এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ এই কয়লা প্রকল্প আদিবাসী আন্দোলনের মুখে কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। স্থানীয়দের দাবির প্রতি সরকার কীভাবে সাড়া দেয়, সেটাই দেখার বিষয়। তবে স্পষ্ট যে, আদিবাসীরা তাঁদের ভূমি ও জীবনযাত্রার ওপর হুমকি এলে কঠোর প্রতিবাদ চালিয়ে যাবেন।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন