চুঁচুড়া: হাওড়ার জায়গায় হরিদ্বার। এই নিয়ে প্রবল হট্টগোল উত্তরপাড়া স্টেশনে। ঘটনা শুক্রবার মধ্য দুপুরের। আচমকা স্টেশন কর্তারা গোরু খোঁজার মতো এক যাত্রীকে খুঁজতে শুরু করেন। শান্ত স্টেশনে যেন ‘সন্ত্রাসবাদী’ হামলা হয়েছে এমন আবহ। ঘনঘন মাইকে ঘোষণা হচ্ছে। মুহূর্তের মধ্যে দেখা গিয়েছে হাওড়াগামী ট্রেনের এক নম্বর প্ল্যাটফর্মে নেমে পড়েছেন রেলকর্মীরা। জনে জনে জিজ্ঞাসা করছেন, ‘আপনি কি এখনই হাওড়ার টিকিট কেটেছেন?’
ততক্ষণে মাইকের ঘোষণা কিছুটা স্পষ্ট হয়েছে। খোঁজাখুঁজির কারণ যাত্রীরা খানিকটা বুঝতে পেরেছেন। জানা গেল, এক যাত্রী হাওড়ার টিকিট চেয়েছিলেন। টিকিটঘর থেকে তাঁকে হরিদ্বারের টিকিট দেওয়া হয়েছে। হাওড়া-হরিদ্বারের ভ্রান্তিতে যাত্রীমহলে তখন মুচমুচে আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে। এক যাত্রী মন্তব্য করলেন, ‘দেখেছ! রেলের কত দায়িত্ব। টিকিট ভুল হয়েছে বলে কেমন অস্থির হয়ে উঠেছে।’ দুপুর সওয়া দু’টো নাগাদ তখন হাওড়া-হরিদ্বারের টানাপোড়েনে রীতিমতো ঝড় বইছে নিস্তরঙ্গ উত্তরপাড়া স্টেশনে। তবে সে যাত্রীর দেখা মেলেনি।ইতিমধ্যে হাওড়াগামী ট্রেন স্টেশনে পৌঁছল। ছেড়েও গেল। কিছুটা থিতিয়ে গেল ভ্রান্তি সংক্রান্ত ঘোলাজল। তারপর রেলকর্মীদের উদ্বেগ ও উত্তেজনার আসল কাহিনি এল প্রকাশ্যে।
জানা গিয়েছে, হাওড়া-হরিদ্বারের ভাড়ার ফারাক। উত্তরপাড়া থেকে হাওড়ার ভাড়া পাঁচ টাকা। কিন্তু উত্তরপাড়া থেকে হরিদ্বারের ট্রেন নেই। উত্তরপাড়া থেকে ভায়া হাওড়া, হরিদ্বারের ভাড়া ৩৮৫টাকা। যাত্রীটি হাওড়ার টিকিট চেয়ে পাঁচ টাকা দিয়েছিলেন। তারপর টিকিট নিয়ে বিদায় নেন। আসলে গণ্ডগোলটি পাকিয়েছেন বুকিং ক্লার্ক। তিনি হাওড়ার পরিবর্তে হরিদ্বারের টিকিট দিয়ে দেন। অর্থাৎ খাতায় কলমে রেলের পাওনা রয়ে যায় ৩৮০টাকা। যাত্রীটির টিকিট শুধরে দিতে না পারলে সেই টাকা সংশ্লিষ্ট বুকিং ক্লার্ককে নিজের পকেট থেকে মেটাতে হবে। তাই লোকলস্কর নামিয়ে ওই যাত্রীকে খুঁজে বের করার চেষ্টা। সন্ধ্যায় রেলের কর্মাশিয়াল ডিভিশনের এক কর্তা দাবি করেন, ওই যাত্রীকে পাওয়া গিয়েছে। তাঁর টিকিট শুধরে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ভুল টিকিটের কারণে যাত্রীর সমস্যা হতে পারত। তাই খোঁজাখুঁজি হয়েছে। সত্যিই কি তাই? একমুখ হেসে সে প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গিয়েছেন কর্মাশিয়াল ডিভিশনেরই অন্য এক কর্তা।
হাওড়া কেমন করে হরিদ্বার হল? সেও এক মজা। আসলে বুকিং সিস্টেমে হাওড়ার কোড, এইচডব্লিউএইচ। আর হরিদ্বারের, এইচডব্লিউ। বুকিং ক্লার্ক একটি ‘এইচ’ বসাতে ভুলে গিয়েছিলেন। সেই ভুলে যাওয়া ‘এইচ’এর জেরেই হইহই কাণ্ড উত্তরপাড়া স্টেশনে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন