মেদিনীপুর: শহরজুড়ে হেপাটাইটিস এ (জন্ডিস) রোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় বেশ উদ্বিগ্ন মেদিনীপুর পুরসভা। শহরের দু›টি ওয়ার্ডে (২১ ও ২২ নম্বর ওয়ার্ড) জলে কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়া পেয়েছে জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর। মূলত পায়খানায় এই ধরনের ব্যাকটেরিয়া লক্ষ্য করা যায়। এই রিপোর্ট সামনে আসতেই কপালে চিন্তার ভাঁজ স্বাস্থ্যদপ্তরের আধিকারিকদের। তবে শুক্রবার শহরের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে কলকাতা থেকে স্টেট ডেভেলপমেন্ট আরবান এজেন্সির তরফে বিশেষ টিম এলাকা পরিদর্শন করে। পাশাপাশি এদিন সকালে ২১ ও ২২ নম্বর ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন বিধায়ক সুজয় হাজরা। জলবাহিত রোগের সমস্যার সমাধানের জন্য বিভিন্ন সামগ্রী তুলে দেন বিধায়ক। অপরদিকে, বিভিন্ন এলাকায় যান মেদিনীপুর পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন খানও। হেপাটাইটিস এ-র প্রাদুর্ভাবে উৎকণ্ঠায় শহরের বাসিন্দারা।বিধায়ক সুজয় হাজরা বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক। কী কারণে এই ঘটনা তা পর্যবেক্ষণ করে দেখা হচ্ছে। ওই এলাকায় ক্যাম্প করা হয়েছে।
এদিন মেদিনীপুর পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন খান বলেন, নতুন করে তিনজন এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। কেউ আতঙ্কিত হবেন না। পুরসভা সর্বদা মানুষের পাশে আছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশকিছুদিন আগে থেকেই হেপাটাইটিস এ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। তড়িঘড়ি রাশ টানতে উদ্যোগ নেয় স্বাস্থ্যদপ্তর। স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই মেদিনীপুর শহরের তিনটি ওয়ার্ডে সার্ভে করেছে স্বাস্থ্যদপ্তর। দেখা গিয়েছে, ২২ নম্বর ওয়ার্ডে স্বাস্থ্যদপ্তরের মোট ১২টি টিম কাজ করেছে। মোটামুটি এই ওয়ার্ডের ৮০০ পরিবারের ৪ হাজার মানুষের মধ্যে ১৯ জনের মধ্যে জন্ডিস রোগের উপসর্গ পাওয়া গিয়েছে। অপরদিকে, ২০ নম্বর ওয়ার্ডে ১০টি টিম ৭৫০টি বাড়িতে গিয়েছে। সেই ওয়ার্ডের ৩ হাজার ৭৫০ জনের মধ্যে ৪ জনের শরীরে জন্ডিস রোগের উপসর্গ পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু ২১ নম্বর ওয়ার্ডে সেভাবে জন্ডিসের উপসর্গ পাওয়া যায়নি।
জেলার সিএমওএইচ সৌম্যশঙ্কর ষড়ঙ্গী বলেন, পুর এলাকার সব ওয়ার্ডের উপর নজর রাখা হচ্ছে। বাড়ি বাড়ি গিয়েও পর্যবেক্ষণ করবেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। আশা করছি দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হবে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ওষুধ বিলি বিধায়ক সুজয় হাজরার।-
.jpg)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন