কলকাতা: অপরিচিত নম্বর থেকে আচমকা ফোন। ধরবেন না ভেবেও শেষ পর্যন্ত ফোনটা ধরলেন লোকনাথ। ওপার থেকে একজন বলে উঠল, ‘তোর স্কুলের বন্ধু বলছি… চিনতে পারছিস না তো! না পারারই কথা। আমাদের ক্লাসের একজন ফোন করেছিল এক্ষুণি। তার থেকেই তোর নম্বরটা পেলাম।’ কথা শেষ হওয়ার আগেই লোকনাথবাবুর ফোনে ঢুকল আরও একটি কল। সেটিও অপরিচিত নম্বর থেকে। প্রথম কলার নির্দেশ দিলেন— ‘মার্জ কর। বুঝতে পারবি, কে ফোন করছে!’
স্কুলজীবনের কোনও বন্ধুর ‘সারপ্রাইজ’-এর আশায় কল ‘মার্জ’ করতেই লোকনাথবাবুর কানে ভেসে এল চার ডিজিটের একটি নম্বর। সঙ্গে সঙ্গে তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ‘ডেবিট’ হয়ে গেল ৭৪ হাজার টাকা!
কনফারেন্স কলের টোপ দিয়ে এভাবেই মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিনব ফাঁদ পেতেছে সাইবার অপরাধীরা। একের পর এক অভিযোগের বহর দেখে চোখ কপালে উঠেছে তদন্তকারীদের। আতঙ্ক ছড়িয়েছে গ্রাহকদের মধ্যেও। কীভাবে সম্ভব হচ্ছে এই ধরনের প্রতারণা? সাইবার বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত ওটিপি মোবাইলে সাধারণত দু’টি মাধ্যম থাকে আসে। প্রথমত, মেসেজের মাধ্যমে চার ডিজিটের ওটিপি ফোনে ঢোকে।
ফোন কলের মাধ্যমেও এই ওটিপি জানা যায়। গ্রাহকের ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট নম্বর আগে থেকেই কোনওভাবে জোগাড় করে রাখছে প্রতারকরা। এরপর ওটিপি ‘চুরি’ করতে দ্বিতীয় পন্থাটি কাজে লাগাচ্ছে তারা। অপরিচিত নম্বর থেকে আসা ফোন গ্রাহক ‘রিসিভ’ করলে বলা হচ্ছে, ‘আপনার বন্ধু নম্বরটি দিয়েছে। সে একনই আপনার নম্বরে ফোন করবে।’ এই কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে দ্বিতীয় একটি নম্বর থেকে ফোন আসছে গ্রাহকের কাছে। তখন কল ‘মার্জ’ করতে বলা হচ্ছে। এই দ্বিতীয় কলার আদতে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের তরফে স্বয়ংক্রিয় ফোনকল। সেই ফোন মার্জ করলে ব্যাঙ্কের তরফেই জানানো হচ্ছে আগে থেকেই প্রতারকদের তরফে নির্দিষ্ট করে রাখা লেনদেন সংক্রান্ত ওটিপি। প্রতারক এবং গ্রাহক একসঙ্গে ওটিপি জানতে পারছে। এরপরই ফোন কেটে দেওয়া হচ্ছে। গ্রাহক কিছু বুঝে ওঠার আগেই কাজে লাগানো হচ্ছে ওটিপি। নিমেষে গায়েব হয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার টাকা। রাজ্য ও কলকাতা পুলিস সূত্রে খবর, একাধিক অভিযোগ আসছে। এনিয়ে সচেতনতার বার্তা দিচ্ছে পুলিস।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন