হাওড়া: রাজস্থান থেকে ফেরা তদন্তকারী দলের তরফে পাচার চক্রের কারবার সম্পর্কে যা তথ্য মিলেছে তা রীতিমতো শিহরণ ফেলার মত। ভারতের বিভিন্ন জায়গা থেকে আড়কাঠিদের কাজে লাগিয়ে দুধের শিশুদের অপহরণ করে রাজস্থানে লুকিয়ে রাখে চক্রটি। শিশুদের বড় করে। তারপর একটু সাবালক হলে নিষিদ্ধ বাজারের চাহিদা অনুযায়ী পাচার করে দেয়। মেয়েদের প্রধানত ঠাঁই হয় নিষিদ্ধপল্লিতে। ছেলেদের পাঠানো হয় পরিচারকের কাজে। ভারতবর্ষ তো বটেই আরব দুনিয়াতেও এদের জাল ছড়ানো। সেখানে মোটা টাকা মেলে বসে কিশোর-কিশোরীদের পাচার করা হয় বেশি। পাঁচ মার্চ হাওড়া স্টেশন থেকে একটি তিন বছরের শিশুকে অপরহণ করা হয়েছিল। তাকে রাজস্থান থেকে উদ্ধার করে হাওড়া জিআরপি। সেই তদন্তের সূত্রেই উঠে এসেছে শিশুপাচার চক্রটির মারাত্মক কাজ কারবার।
রাজস্থানের প্রত্যন্ত সওয়াই মাধোপুর জেলার ছোট মফসল শহর। চৌথ মাতার মন্দিরের জন্যও অঞ্চলটির পরিচিতি আছে। হাওড়া স্টেশন থেকে দূরত্ব প্রায় ১ হাজার ৪৭২ কিলোমিটার। এই মন্দির শহরের এক গোপন ডেরায় লুকিয়ে রাখা হয়েছিল তিন বছরের শিশু কন্যাটিকে। হাওড়া স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে মায়ের কোল থেকে তাকে অপহরণ করেছিল শাহনারা বেগম নামে চক্রের এক এজেন্ট (আড়কাঠি)। তারপর হাওড়া জিআরপি আর রাজস্থান পুলিস রোমহর্ষক অভিযানে নামে। উদ্ধার হয় বাচ্চাটি। যদি সঠিক সময়ে রাজস্থানে চক্রের চাঁইয়ের গোপন ডেরায় তাঁরা পৌঁছতে না পারতেন, তাহলে হয়ত অন্ধকার কোনও গলিতেই চিরতরে হারিয়ে যেত শিশুটি। পাচার চক্রের রিসিভার সোরাজ কানজারকে ধরার পর ওই অন্ধকার জগতের রমরমা কারবারের হদিস পায় তদন্তকারীরা।
হাওড়া জিআরপির এক আধিকারিক বলেন, ‘এসআরপি ম্যাডামের নির্দেশে সবাই বাচ্চাটিকে খুঁজতে অমানুষিক পরিশ্রম করেছেন। পাশাপাশি হাওড়া সিটি ও গ্রামীণ পুলিস, আরপিএফ রাজস্থান গোটা অপারেশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।’ তিনি জানান, কয়েকশো সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অপারেশনে নামা হয়। তিন ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পরবর্তী পদক্ষেপ হবে। অন্ধকার জগতের এই পাচার চক্রের কারবারের যে হদিশ মিলেছে তা শিউরে ওঠার মত। এবার গোয়েন্দারা তদন্তের মূল পর্যায়ে পৌঁছেছেন। চক্রের কিং পিনদের ধরতে কমলালেবুর মতো খোসা ছাড়াতে শুরু করেছেন তদন্তের। টানটান ওয়েব সিরিজের মতো রোমহর্ষক উদ্ধার অভিযানের পুরোটা প্রকাশ্যে এলে তা বেশ কয়েকদিনের জন্য চর্চার শিরোনামে চলে আসবে বলে মনে করছেন অনেকে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন