করিমপুর: বছর তিনেক আগে থেকে কেন্দ্রের বিএডিপি (বর্ডার এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম) প্রকল্পের টাকা বন্ধ থাকায় থমকে গিয়েছে সীমান্ত এলাকার উন্নয়ন। স্কুল বিল্ডিং তৈরি, রাস্তা ঢালাই কিংবা কালভার্ট তৈরির মতো ছোটখাটো কাজও করা যাচ্ছে না।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের সীমান্তবর্তী পঞ্চায়েত সমিতিগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিএডিপি-র টাকার গুরুত্ব প্রচুর। রাজ্যের বা জেলার বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া পঞ্চায়েত সমিতিগুলো এই বিশেষ প্রকল্পের টাকা পেয়ে থাকে। ওই প্রকল্পের অর্থ খরচ করার ক্ষেত্রেও কিছু নিয়ম রয়েছে। শুধু পঞ্চায়েত সমিতির অন্তর্গত হলেই হবে না। সীমান্তের জিরো পয়েন্ট থেকে দশ কিলোমিটারের মধ্যে থাকা এলাকাতেই ওই প্রকল্পের টাকায় কাজ করা যায়। সেই হিসেবে করিমপুর ১ ও ২ পঞ্চায়েত সমিতির প্রায় দশটি গ্রাম পঞ্চায়েত বিএডিপি প্রকল্পের টাকার সুবিধা পেত। ২০২১-২২ সালে শেষ বারের মতো কেন্দ্রীয় বরাদ্দ পেলেও তারপর থেকে তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
করিমপুর ১ ব্লকের মধুগাড়ি, হোগলবেড়িয়া, শিকারপুর, পিপুলবেড়িয়া, যমশেরপুর এবং হরেকৃষ্ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কিছু এলাকা এবং করিমপুর ২ ব্লকের মুরুটিয়া, দীঘলকান্দি, নন্দনপুর, রহমতপুর ও নারায়ণপুর ২ গ্রাম পঞ্চায়েত এই প্রকল্পের আওতায় পড়ে। শুধুমাত্র এই পঞ্চায়েত উন্নয়নের জন্য প্রতি বছর বিএডিপি প্রকল্পের প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি টাকা পাওয়া যেত। সেই টাকায় কয়েক বছরে অনেক রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। মানুষের যোগাযোগ ও যাতায়াত সহজ হয়েছে। কিন্তু গত তিন বছর টাকা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক কাজ বন্ধ হয়ে রয়েছে। কারণ ৫০-৬০ লক্ষ টাকার মতো বড় বাজেটের কাজ মূলত বিএডিপি প্রকল্পের টাকায় করা হতো। পঞ্চায়েতের টাকায় বড় কাজ সম্ভব হয় না। স্বাভাবিক ভাবেই এখন টাকার অভাবে স্কুল ঘর, নিকাশি নালা, রাস্তা তৈরির কাজ থমকে আছে। করিমপুর ১ পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি আলাউদ্দিন মণ্ডল জানান, এলাকার রাস্তাঘাট ছাড়াও রাস্তার আলো, স্কুলের উন্নয়ন এবং সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় কিছু কাজও করা হতো। কিন্তু বরাদ্দ বন্ধ হওয়ায় অনেক কাজ শেষ হলেও ঠিকাদারদের টাকা দেওয়া যায়নি।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন