মালদা: স্কুলের সামনে ছাত্রীদের উদ্দেশ্য করে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির অভিযোগের এক যুবককে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে পুরাতন মালদা থানার সাহাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নিত্যানন্দপুর এলাকায়। মঙ্গলবারের এই ঘটনার পর জেলা পুলিশের সোশ্যাল পেজে অভিযুক্ত যুবকের ছবি দিয়ে বিষয়টি প্রকাশ্যে এনেছে পুলিশ। ধৃতের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে তদন্তকারী পুলিশকর্তারা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতের নাম সুমিত দাস। তার বাড়ি পুরাতন মালদার নিত্যানন্দপুর এলাকায়। এদিন সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ সাহাপুর গার্লস হাইস্কুলের সামনেই একাংশ ছাত্রীদের উদ্দেশ্য করে একটি পরিত্যক্ত বাড়ির ছাদ থেকে ওই যুবক অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করছিল বলে অভিযোগ। এমনকী নানাভাবে স্কুলছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করার চেষ্টা চালায় অভিযুক্ত ওই যুবক বলে অভিযোগ। ওই যুবকের এমন অশ্লীল আচরণে উপস্থিত একাংশ ছাত্রীরা রীতিমতো ভয়ে আড়ষ্ট হয়ে পড়ে। বেশ কিছু ছাত্রীরা চিৎকার, চেঁচামেচির পাশাপাশি কান্নাকাটিও শুরু করে দেয়। সেই সময় ওই স্কুলের রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল পুলিশের পিঙ্ক মোবাইল টিমের গাড়ি। পুলিশের নজরে বিষয়টি আসলে অভিযুক্ত যুবককে ধাওয়া করে ধরে ফেলে।
পুলিশ জানিয়েছে, ওই পিঙ্ক মোবাইল টিমের টহলদারির দায়িত্বে ছিলেন এসআই ভানুমতী সিংহ। তিনিই প্রথমে ওই স্কুল ছাত্রীদের বিষয়টি জানতে পারেন। এরপরই অভিযান চালিয়ে ওই যুবককে প্রথমে আটক করলেও পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিদিনের মতো এদিন সাহাপুর গার্লস হাইস্কুলের আসছিলেন ছাত্রীরা। সেই সময় স্কুলের পাশের একটি পরিত্যক্ত বাড়ির ছাদ থেকেই আচমকায় ওই যুবক কুরুচিকর মন্তব্যের পাশাপাশি অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করে বলে অভিযোগ। বিষয়টি কিছু ছাত্রী দেখতে পেয়ে ভীত ও সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। এরপরই পুলিশি অভিযানে ধরা পড়ে যায় ওই যুবক।
সাহাপুর গার্লস হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষিকা ঝর্ণা ঝা জানিয়েছেন, এদিন সকাল ১০টা ১০ মিনিটে নাগাদ স্কুল চত্বরর বাইরে এমন ঘটনা ঘটেছে। যদিও ওই স্কুলের একাংশে এখনো সীমানা পাঁচিল নেই। ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে এক যুবক অশ্লীল আচরণ করছিল বলে জানতে পারি। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই যুবককে আটক করে। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় সুমিত দাসের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট মামলা দায়ের করা হচ্ছে এবং তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এদিকে ছাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পিঙ্ক মোবাইলের এই দ্রুত পদক্ষেপ অত্যন্ত প্রশংসা করেছেন স্থানীয় গ্রামবাসীরা।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন