ওয়াশিংটন: রুশ-মার্কিন ঠান্ডা যুদ্ধ অতীত। নতুন বিশ্বে আমেরিকার প্রধান প্রতিপক্ষ চিন! দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসা থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের গতিবিধি সেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। আর সেটা শুধুই শুল্ক বা বাণিজ্য যুদ্ধে থেমে থাকছে না। কারণ, এমন একটা আবহে বেজিংয়ের সাফ হুঁশিয়ারি, যে কোনও যুদ্ধের জন্য তারা প্রস্তুত। শেষ না দেখে পিছু হটবে না চিন।
ইউক্রেন যুদ্ধ ইস্যুতে গোটা বিশ্বকে অবাক করেছে রাষ্ট্রসঙ্ঘের ভোটাভুটি। দীর্ঘ মার্কিন নীতি থেকে সরে ইউরোপের বিরুদ্ধে গিয়েছে আমেরিকা। পক্ষ নিয়েছে রাশিয়ার। অর্থাৎ, রাশিয়াকে আর বড় বিপদ ভাবছেন না ট্রাম্প। বরং, নতুন বিশ্বে চিনই ‘মূল শত্রু’ ওয়াশিংটনের। আর তা বুঝেই এবার পাল্টা সুর চড়াল বেজিং। ঘটনাচক্রে, ভারতের মতো চিনের উপরও পাল্টা শুল্ক চাপিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। বুধবার মার্কিন কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ট্রাম্পের ঘোষণা, ভারত ও অন্য দেশগুলির মতো চিনের উপরও বর্ধিত শুল্ক চাপছে আগামী ২ এপ্রিল থেকে। সেই প্রেক্ষিতেই চিনা বিদেশ মন্ত্রক এক্স হ্যান্ডলে লিখেছে, তুচ্ছ অজুহাতে চিনের পণ্যে শুল্ক বাড়িয়েছে আমেরিকা।
চিনা দূতাবাসের হুঁশিয়ারি, আমেরিকা যদি যুদ্ধ চায়, তাহলে শেষ পর্যন্ত লড়ে যেতে প্রস্তুত বেজিংও। তা সে শুল্ক-বাণিজ্যযুদ্ধই হোক, বা অন্য যে কোনও যুদ্ধ। আর এই হুমকির মধ্যেই বুধবার প্রতিরক্ষা বাজেটে এক ধাক্কায় ৭.২ শতাংশ বরাদ্দ বাড়িয়েছে জি জিনপিংয়ের দেশ। মূলত সেনাবাহিনীর আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে চিনের প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ বেড়ে হয়েছে ২৪ হাজার ৯০০ কোটি মার্কিন ডলার। সর্বাধুনিক যুদ্ধজাহাজ ও নিউ জেনারেশন ফাইটার জেট তৈরির লক্ষ্যেই এই বিপুল বরাদ্দ। আমেরিকার বিরুদ্ধে চিনের বিদেশ মন্ত্রকের হুমকি ও বিশাল বপু প্রতিরক্ষা বাজেট ঘোষণার এই সমাপতনে স্বাভাবিকভাবেই জল্পনা তুঙ্গে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন