হুগলির গঙ্গায় বুল শার্ক, চাঁদনী ঘাটে হাঙর দেখলেন প্রাণী বিজ্ঞানীরা! - Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel is currently West Bengal's leading, popular, authentic and trustworthy digital media. Aaj Bikel News has become the voice of crores of readers and viewers.

শনিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৫

হুগলির গঙ্গায় বুল শার্ক, চাঁদনী ঘাটে হাঙর দেখলেন প্রাণী বিজ্ঞানীরা!


 

হুগলি: পিঠের উপরের পাথ নাটা বেশ বড়। এটা বুল শার্ক। আকারে ছোটল হোয়াইট শার্কের তুলনায় অনেক ছোট হলেও বুল শার্ক স্বভাবতই আগ্রাসী।

ব্যান্ডেলের কাছে হুগলি নদীতে বহু বিশেষজ্ঞকে চমকে দিয়ে হাঙর ধরা পড়ল বিজ্ঞানীদের জালে, তারও পেট সাদা, তবে পিঠ ধূসর। এর আগে ভারতের ইনল্যান্ড ওয়াটার বা নদীপথের আগে এই প্রজাতির হাঙরের সন্ধান মেলেনি। ব্যান্ডেলের কাছে ওই জায়গায় হুগলি নদীর প্রায় ৪৫ মিটার চওড়া। সকালে দিকে অন্তত এক ডজন মৎস্যজীব নৌকা থেকে ১০০টা জাল পড়েছিল নদীতে। গত রবিবার, ৯ মার্চ সকালে সেই সময়ে যাত্রী নিয়ে নদী পারাপার করছিল ৪টা নৌকো। একই সময়ে নমুনা সংগ্রহের কাজে ব্যস্ত বিজ্ঞানীদের নৌকার জালে ধরা পড়ল সেই হাঙর।

শত্রুপোত গড়া, নাকটা বাড়তে গিয়েও যেন পুরো বাড়তে পারেনি; মাঝপথে থমকে গিয়েছে। হুগলির চাঁদনী ঘাটে প্রাণী বিজ্ঞানীরা দেখা পেলেন বুল শার্কের। প্রাণী বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, পুরুষের তুলনায় বুল শার্কের প্রজাতি আকারে কিছুটা বড় হয়। পূর্নবয়স্ক একটি স্ত্রী হাঙরের দৈর্ঘ্য প্রায় ৬ ফুট পর্যন্ত হতে পারে। ধরা পড়া হাঙরটি পুরুষ না স্ত্রী, সেটা এখনও
পর্যন্ত জানা যায়নি।

যে জায়গায় ওই হাঙর ধরা পড়েছে, সেখানে গঙ্গার ঘাটে ভিড় লেগেই থাকে। স্নান করতে নামা কেউ যদি আবিষ্কার করতেন, তাঁর পাশেই সাঁতরে বেড়াচ্ছে হাঙর, তা হলে! প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, হাঙর থাকে সমুদ্রে। হুগলি নদীতে তবে
হাঙর এল কী করে? মেরিন বায়োলজিস্টদের  মতে, এই প্রজাতির হাঙর সমুদ্রের লবণাক্ত জল থেকে শুরু করে নদীর মিষ্টি জল, সব রকম জলেই স্বচ্ছন্দ। স্বভাবে পরিযায়ী। অনুকূল পরিবেশের সন্ধানে তারা সমুদ্র থেকে নদী, বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ায়। কিন্তু তা বলে হুগলি নদীর মোহনা থেকে ১৪০ কিলোমিটার ভিতরে! ছন্দ কিন্তু কাটছে না প্রাণী
বিজ্ঞানীদের। ইতিমধ্যে ঘটনাটি প্রকাশিত হয়েছে ‘জার্নাল অফ ওয়াইল্ডলাইফ সায়েন্স’, এ। আইইউসিএন এর তালিকায় বুল শার্ককে ‘অসুরক্ষিত’ বা ভালনারেবল প্রজাতি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এই প্রজাতির হাঙরের সংখ্যা দ্রুত কমতে থাকার প্রধান কারণ, বেহিসেবি ধরা। মাছের আকাল সঙ্গে ধরা হচ্ছে প্রচুর পরিমাণে হাঙরও। ফলে অন্য প্রজাতির সঙ্গে বুল শার্কের সংখ্যাও কমছে।

পাশাপাশি, জলজ প্রাণীদের আচরণ বদলে যেতে শুরু করেছে জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রের দূষণে। এই নিয়ে ইউনেস্কোর পরিবেশ বিষয়ক উপদেষ্টা ও পরিবেশবিজ্ঞানী স্বাতী নন্দী চক্রবর্তী বলছেন, ‘পরিবেশ দীর্ঘমেয়াদী দূষণে এমন সব অস্বাভাবিক কাণ্ড’।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন