মধ্যগ্রাম: মধ্যগ্রাম পিসিশাশুড়ি খুন কাণ্ডে অবশেষে মঙ্গলবার খুনে ব্যবহৃত সেই বঁটি ও দাঁ উদ্ধার করলো পুলিশ। ডুবুরি নামিয়ে বাড়ির পাশের পুকুর থেকে উদ্ধার করা হল খুনের ব্যবহৃত দুটি অস্ত্র। এদিন পুলিশ পাহারায় মা আরতি ঘোষ ও মেয়ে ফাগুনী ঘোষকে মধ্যগ্রামের বীরেশপল্লির বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। দেহ বন্দি করার পর অস্ত্র কোথায় ফেলেছে তা বলে দেন তারা। তারপর ডুবুরি ১৫ মিনিটের মধ্যে অস্ত্র দুটি উদ্ধার করে। সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে একটি হাতুড়িও। পরবর্তীতে খুন করা পিসিশাশুড়ির জামাকাপড় ও তাঁর ব্যবহৃত জিনিস উদ্ধারের জন্য মধ্যগ্রাম থানা ও তল্লাশি চালায় পুলিশ।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে টুলি ব্যাগ-সহ আরতি ঘোষ ও ফাগুনী ঘোষকে গ্রেপ্তার করা হয় কলকাতার কুমারটুলি এলাকা থেকে। তাঁদের খুনের ঘটনাস্থল থেকে রক্তের বেশ কিছু নমুনা সংগ্রহ করেন। নমুনা সংগ্রহের পর সেখান থেকে তদন্তকারীরা বেরিয়ে যান। ওই দিন রাতে তাদের মাকে ফাগুনীকে থেকে বাইরে এনে পুলিশ বাড়ি লাগোয়া পাশের একটি ফাঁকা জমিতে পুলিশ তল্লাশি শুরু করে। ধৃতকে জেরা করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, খুনের পর আরতি ও তার মেয়ে ফাগুনী ফাঁকা ওই জমিতে রক্তমাখা ইটের টুকরো ফেলে দিয়েছিলেন। রাতে লাগোয়া ফাঁকা জমি থেকে পুলিশ তা বাজেয়াপ্ত করে।
সূত্রের খবর, বাজেয়াপ্ত হওয়া এই ইটের টুকরো দিয়েই সুমিতা ঘোষের মাথায় আঘাত করা হয়েছিল। তারপর দেহ টুকরো টুকরো টুলি ব্যাগে ভরে মা ও মেয়ে কুমারটুলির গঙ্গার ঘাটে নিয়ে গিয়েছিলেন। সুমিতার দেহ টুকরো টুকরো করার সময় যে অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল রাতে পুলিশ তার খোঁজে গিয়েছিল। সেদিন তা অবশ্য পাওয়া যায়নি। সিএফএসএলের টিম বীরেশপল্লির ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ মঙ্গলবার খুনে ব্যবহৃত বঁটি, দাঁ ও হাতুড়ির খোঁজে পুলিশ ফাগুনী ও আরতিকে নিয়ে মধ্যগ্রামের বীরেশপল্লি এলাকায় এল। নর্থপোর্ট ও মধ্যগ্রাম থানার পুলিশ যৌথ ভাবে ঘটনার তদন্ত করছে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন