কলকাতা: জাল ওষুধের সন্ধানে উত্তর কলকাতার একটি নামী বেসরকারি হাসপাতালে হানা। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোলের অফিসারদের এই যৌথ অভিযানে বাজেয়াপ্ত হিউম্যান অ্যালবুমিনের মতো জীবনদায়ী, অত্যন্ত দামি ইঞ্জেকশন৷ প্রস্তুতকারক সংস্থা জানিয়েছে, এমন কোনও ব্যাচ নম্বরের ইঞ্জেকশনই তারা তৈরি করেনি তারা৷ প্রশ্নের মুখে হাসপাতালকর্মীরা জানান, ভেজাল অ্যালবুমিন তাঁরা কেনেন বেলেঘাটার চাউলপট্টি রোডের এক খুচরো ওষুধ বিক্রেতার কাছ থেকে৷ সেখানে হানায় জানা যায়, ইঞ্জেকশন এসেছে মেহতা বিল্ডিং থেকে৷ টিম ছোটে মেহতা বিল্ডিং-এ। সেখানকার ওষুধ ব্যবসায়ী জানান, তিনি কিনেছেন মুম্বই থেকে৷
চিকিৎসকরা জানান, বড়সড় চোট আঘাত, রক্তপাত, আগুনে পোড়ার ঘটনাসহ জরুরি প্রয়োজনে অপরিহার্য অ্যালবুমিন ইঞ্জেকশন৷ রাজ্যের বড় ও মাঝারি প্রাইভেট হাসপাতালের সংগঠনের সভাপতি রূপক বড়ুয়া বলেন, ঠিক এই কারণেই ওষুধের গুণগত মান নিশ্চিত করতে আমরা শুধুমাত্র কোম্পানি নয়তো দীর্ঘদিনের সম্মানীয় পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কিনিই। মাঝখানে কেউ থাকে না। এদিকে আমতার জাল ওষুধ কাণ্ডের তদন্ত সিআইডিকে হস্তান্তরের পরিকল্পনা নিয়েছে স্বাস্থ্যদপ্তর।
সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই আমতা কেস সমাধানে অতিরিক্ত সাহায্য নেওয়ার অনুমতি আদালত থেকে মিলেছে। ভিন রাজ্য যোগ, মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেন এবং ফোন ট্র্যাকিংয়ের প্রয়োজনীয়তার জন্য কেসটি সিআইডিকে হস্তান্তর করা জরুরি।
ওষুধ সরবরাহকারী, দেশের তিনটি বড় প্রস্তুতকারক সংস্থার প্রতিনিধিরা শুক্রবার স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগমের সঙ্গে বৈঠক করেন। জাল ওষুধ ধরতে সরকারের সক্রিয়তায় সন্তোষ প্রকাশ করেন তাঁরা। তদন্তে সহযোগিতা করা হবে বলেও তাঁরা জানিয়েছেন। এদিন রীতিমতো বিজ্ঞাপন দিয়ে রাজ্য জানায়, ৩০০টি পরিচিত ওষুধ কেনার সময় কিউআর কোড স্ক্যান করা উচিত। এছাড়া সব ওষুধেরই ক্যাশ মেমোতে ইস্যু করা ওষুধের লেভেলে মুদ্রিত ওষুধের নাম, ব্যাচ নম্বর ও মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার তারিখ মিলিয়ে দেখার অনুরোধও করা হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন