কলকাতা: ভবানীপুর থানা এলাকার ৭৫ নং ওয়ার্ডের ৩০বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি। এবার এই ওয়ার্ডেই মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির কাছে পার্টি অফিস তৈরির পরিকল্পনা করছে বিজেপি।
এই পরিকল্পনার মূল উদ্যোক্তা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। জানা গেছে, ১ মে নন্দীগ্রামের বিজেপি বিধায়ক এই কার্যালয় উদ্বোধন করতে চান। মঙ্গলবার ভবানীপুরের বিজেপি নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এই নিয়ে আলোচনা করেন বলে সূত্রের খবর। আরো জানা গেছে, ১০০ জনের বেশি কর্মী নিয়ে প্রতিটি টিম তৈরি করা হবে।
যাঁরা ওই এলাকার তথ্য সংগ্রহ করবেন। তবে তাঁদের পরিচয় গোপন রাখা হবে। কিছুদিন আগে শুভেন্দু অধিকারী মন্তব্য করেছিলেন, নন্দীগ্রামের থেকে ভবানীপুরে জেতা সহজ কাজ। ২৪ সালের লোকসভা ভোটের ফলাফল তুলে ধরে বিজেপির বক্তব্য, ভবানীপুরের ৮টি ওয়ার্ডের মধ্যে এগিয়ে গিয়েছে ওয়ার্ডটি বিজেপি। ৬০, ৭০, ৭২ ও ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডে এগিয়ে ছিল বিজেপি। আর তৃণমূল এগিয়ে ছিল ৭৫, ৭৭ ও ৮২ নম্বর ওয়ার্ডে। মুখ্যমন্ত্রী ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। লোকসভা ভোটের নিরিখে এই ওয়ার্ডে বিজেপি পিছিয়ে রয়েছে ২৯১ ভোটে সিপিএম পিছিয়ে। মুখ্যমন্ত্রী যে ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সেই ওয়ার্ডে তুলনামূলকভাবে ভোট কম শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি জানা গেছে, সেদিনের বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, ৭৭ নং ওয়ার্ডে না দিলে চলবে। তাই ওয়ার্ডটি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত।
ওয়ার্ডটি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত। বিজেপির আকাশ বলছে, ৭৭ নম্বর ওয়ার্ড বাদ দিয়ে বাকি ওয়ার্ডে ঠিকঠাক লড়াই করলে ভবানীপুরে বিজেপির জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও গত লোকসভা ভোটে দেখা গেছে, তৃণমূল কংগ্রেস ৩টি ওয়ার্ডে এগিয়ে থাকলেও ভবানীপুরে থেকে ৬ হাজার ২৭৯ ভোটের লিড পেয়েছিলেন দক্ষিণ কলকাতা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী মালা রায়। শুধু ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডেই তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী দেবশ্রী ঠাকুটের থেকে ১২ হাজার ৩২৬ ভোটে বেশি পেয়েছিলেন। ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে ভবানীপুরকে তিনি যে বাড়তি গুরুত্ব দিয়েছেন, কিছুদিন ধরে ভবানীপুরে একাধিক কর্মসূচিতে নেমে বুঝিয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। ভবানীপুরের থিয়েটার রোড এলাকায় নরেন্দ্র মোদীর ‘মন কী বাত’ শুনেছেন। এবার মুখ্যমন্ত্রীর ওয়ার্ডেই কার্যালয় খোলার কথা জানিয়ে নিজের বার্তা স্পষ্ট করে দিলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা। ভবানীপুরে বিজেপিকে ঠেকাতে এখন তৃণমূল কী পদক্ষেপ করে, সেটাই দেখার। অন্যদিকে, ভবানীপুরে বিজেপির পার্টি অফিস খোলা নিয়ে দমদমের তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় বলেন, ‘পার্টি অফিস যে কেউ করতেই পারে। ওরা ওখানে বিজেপির পার্টি অফিস খুললে পুলিশের নজরদারি বাড়াতে হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভবানীপুর থেকে ৫ হাজার ভোটে জিতেছিলেন। ওখানে পার্টি অফিস করে কী লাভ?’

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন