কলকাতা: কেন্দ্র ও রাজ্যের ড্রাগ টেস্টে অনামী থেকে বেশ কিছু নামি কোম্পানির একের পর এক ওষুধ ফেল করার পর রাজ্যে ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করলো স্বাস্থ্য দফতর। সরকারি, বেসরকারি হাসপাতাল থেকে খুচরো, পাইকারি দোকান সব জায়গা থেকেই ওই ওষুধ সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিলো স্বাস্থ্য সচিব। নির্দেশের পরেও ফেল ওষুধ বিক্রি করলে লাইসেন্স বাতিলের হুঁশিয়ারি। হাসপাতাল থেকে দোকানে দোকানে টাঙাতে হবে ফেল করা ওষুধের তালিকা। রাজ্যের যে যে কোম্পানির ওষুধ ফেল, তাদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সব ওষুধের মধ্যে রয়েছে প্রেসার সুগার, বাতের চিকিৎসা, হাড়ের, ফুসফুসের চিকিৎসা সহ নানা দৈনন্দিন ব্যবহৃত ওষুধের ব্র্যান্ড। এছাড়াও নানা ইনজেকশন, সিরাপ সহ আরও কিছু ওষুধও রয়েছে এই ফেলের তালিকায়। শেষ ৩ মাসে সারা দেশে ফেল নামীদামী কোম্পানির প্রায় ৪০০ ওষুধ। গত মাসে ১৪৪ টি ব্র্যান্ডের ওষুধ ফেল করে গুণমানের পরীক্ষায়। এর মধ্যে ২৬ টি ব্র্যান্ড কলকাতা থেকে নেওয়া হয়েছিল। এর বাইরে আরও ১৩৭ টি ওষুষ এর নমুনা নিয়ে পরীক্ষার পর দেখ গেছে। ১৩৭ টি ওষুধের মধ্যে কলকাতার বাজার থেকে নেওয়া
২৩ টি ওষুধ, ৪৭ টি ব্রানডার ক্ষেত্রে দেখা গেছে প্যাকার গায়ে যা লেখা আছে ওষুধে সেই পরিমান নেই। আর এই স্যাম্পেল ৫ টি ওষুধ তো পুরোপুরি জল। ঘটনার গুরত্ব বুঝে অবিলম্বে বিতর্কিত ওষুধ ব্যবহার-বিক্রিতে রাজ্যের নিষেধাজ্ঞা পালনের জন্য জেলার সমস্ত স্বাস্থ্য আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য ভবন। এমনকি সরকারি হাসপাতাল ও ড্রাগ স্টোর থেকেও বিতর্কিত ব্যাচের ওষুধ সরানোর নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ওই নির্দেশিকায়। তবে শুধু সরকারীই নয় বিতর্কিত ওষুধ ব্যবহার বন্ধে বেসরকারি হাসপাতালেও কড়া নির্দেশ। একইসঙ্গে ওই ওষুধ কেচেয়ে যাতে কোনো ক্ষতি না হয় তার জন্য খুচরো-পাইকারি বিক্রেতাদেরও বিতর্কিত ওষুধ বিক্রি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ওই নির্দেশিকায়। এমনকি ওই সব দোকানে আচমকা হানা দেবে স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকরা যেদি দেখা যায় ওই বাতিল ব্যাচের ওষুধ বিক্রি হচ্ছে বা নোটিস টাঙানো নেই তাহলে ওই দোকানের লাইসেন্স পর্যন্ত বাতিলের পথের হাঁটবে স্বাস্থ্য দফতর।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন