কৃষিক্ষেত্রে রাজ্যে প্রথম রেন ওয়াটার পাম্পিং স্টেশন - Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel is currently West Bengal's leading, popular, authentic and trustworthy digital media. Aaj Bikel News has become the voice of crores of readers and viewers.

শুক্রবার, ৭ মার্চ, ২০২৫

কৃষিক্ষেত্রে রাজ্যে প্রথম রেন ওয়াটার পাম্পিং স্টেশন

 


স্বরূপনগর:  পাম্পের মাধ্যমে জমিতে জল সেচ দিয়ে চাষ স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু জলমগ্ন চাষের জমি থেকে পাম্প দিয়ে জল সরিয়ে সেই জমিতে চাষ অভিনব। বিশেষজ্ঞদের দাবি, রাজ্যে এমন উদ্যোগ সর্বপ্রথম। কৃষক স্বার্থে অভিনব এই উদ্যোগে নজর কেড়েছেন উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরের বিধায়িকা বীণা মণ্ডল। রাজ্য সরকারের এমন প্রচেষ্টায় উপকৃত হচ্ছেন বহু কৃষক।

এদিন বর্ষায় জল জমে থাকায় চাষ বন্ধ করে দিতে হত। ফি-বছর এমন পরিস্থিতিতে পড়ে সর্বস্বান্ত হতে হচ্ছিল প্রায় সাড়ে চারশো কৃষক পরিবার। বর্ষা ও শীতের মরশুমে চাষ ব্যাহত হচ্ছিল। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ‘রেন ওয়াটার পাম্পিং স্টেশন’ বসিয়ে, সেচের মাধ্যমে জমা জল সরিয়ে আবার চায়ে ফিরলো কৃষকেরা। স্বরূপনগরের বিধায়িকা বীণা মণ্ডলের উদ্যোগে বর্ষা ও শীতের মরশুমে আবার চাষ শুরু হল স্বরূপনগরের খোলা এলাকায়। চাষ শুরু হতেই কৃষকদের মুখে ফিরলো চওড়া হাসি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও স্বরূপনগরের বিধায়িকাকে ধন্যবাদ জানাতে ভোলেননি কৃষক পরিবারের সদস্যরা।

স্বরূপনগরের খোলা গ্রামের মধ্যে ও পাশাপাশি দিয়েই বয়ে গিয়েছে ইছামতী ও যমুনা নদী এবং পাদা খাল। স্থানীয় সমাজসেবী দীনবন্ধু মণ্ডল জানান, ‘নদীর জল থেকে গ্রাম ও মানুষকে বাঁচাতে প্রায় ৫ কিলোমিটার বাঁধ দিয়ে ঘেরা আমাদের গ্রাম।’ কেন্দ্রের বিজেপি সরকার দীর্ঘদিন নদী সংস্কার না করায় পলি পড়ে নদীর নব্যতা কমেছে। অতিমাত্রায় কমেছে নদীগুলির জল ধারণ ক্ষমতা। বর্ষার সময় নদীর জলস্তর, খোলা গ্রামে বর্ষায় জমে থাকা জলস্তরের তুলনায় বেশি থাকে। ফলে গ্রামের জল সুইট গেটের মাধ্যমে নদীতে যায় না। বরঞ্চ নদীর জলস্তর বেশী থাকায় সুইট গেট বন্ধ দিলে নদীর জল গ্রাম ও চাষের জমি আরও প্লাবিত হতে যায়। স্বাভাবিকভাবে বর্ষার জলে জমে থাকত গ্রামে ও চাষের জমিতে। সে কারণে গ্রামের ১৫-১৬ শো বিঘা জমির চাষ বন্ধ হয়েছিল। সমস্যায় পড়েছিলেন গ্রামের শিশু থেকে বৃদ্ধ সকলেই। বিগত ১২-১৫ বছর ধরে এই সমস্যা চলছিল। বছর যত গড়িয়েছে সমস্যা ততই বেড়েছে। বর্ষার মরশুমে ৪-৫ মাস জমা জলের কারণে মাঠের ফসল নষ্ট হত। চাষ বন্ধ রাখ তে হত। পেটে টান পড়ত কৃষক পরিবারগুলির। অর্থাৎ এই খোলা, সবজি ও ফুল চাষের জন্য বিখ্যা ত। এখানকার সবজি ও ফুল উত্তর ২৪ পরগনার বড় অংশের চাহিদা মিটিয়ে কলকাতার বাজারেও পৌঁছে যেত। অবশেষে জল সমস্যার সমাধানে স্থানীয় বিধায়িকা বীণা মণ্ডল উদ্যোগ নেন। এগ্রি ইরিগেশন দপ্তরের বসিরহাট মহকুমার অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার সিদ্ধার্থ বিশ্বাস জানান, ‘রাজ্য সরকারের জলসম্পদ অনুসন্ধান ও উন্নয়ন দপ্তরের অর্থে চরের মাটি, কানি বাঁশের ও নলদি এই তিনটি জায়গায় তিনটি পাম্প বসানো হয়। এই পাম্পের মাধ্যমে বর্ষার জমা জল তুলে নদীতে ফেলার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিগত দিনের ভয়াবহ সমস্যা ভুলে আবার এই মরশুম থেকেই মাঠে ফিরেছেন কৃষকরা। পাম্পের মাধ্যমে চাষের জমি থেকে জমা জল বের করে সেই জমিতে চাষ উত্তর ২৪ পরগনা জেলাতে শুধু নয় রাজ্যে প্রথম। বর্ষার জল জমতে শুরু করলেই আমরা পাম্প করে লাগাতার জল তুলে নদীতে ফেলতে থাকি। এতে শুধু চাষের জমিতে নয় গ্রামের জমা জলও নিষ্কাশন হয়ে যায়।’ বিধায়িকা বীণা মণ্ডল বলেন, ‘আমাদের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কৃষকদের দীর্ঘদিনের অত্যন্ত সহানুভূতিশীল। কৃষকদের ভবিষ্যতের সমস্যার সমাধানে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশমতো কাজ করেছি। এভাবে চাষের জমি থেকে জল সরিয়ে চাষ রাজ্যে প্রথম। আরও কয়েকটি পাম্প বসালে পুরো সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। সেই উদ্যোগও আমরা নিচ্ছি।’

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন