চুঁচুড়া: সর্বধর্ম সমন্বয়ের বার্তায় বিতর্কের জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার হুগলির ফুরফুরা শরিফের ইফতার অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো বলেন, আমি সবধর্মের সমস্ত অনুষ্ঠানে অংশ নিই। সর্বধর্ম সমন্বয়ই বাংলার সংস্কৃতি। ফুরফুরাতেও আমি বহুবার এসেছি।
এদিন শুধু সমন্বয়ের সংস্কৃতির কথাই তুলে ধরেননি মুখ্যমন্ত্রী, ফুরফুরার একগুচ্ছ প্রকল্পের উদ্বোধনও করেছেন। পীর আবু বক্কর সিদ্দিকির নামে একটি পলিটেকনিক কলেজ ও বাসস্ট্যান্ড তৈরির কথা ঘোষণা করেছেন। নির্মীয়মান স্থানীয় হাসপাতালটিকেও সমাজসেবী পীর আবু বক্করের নামে করার কথা বলেছেন। ইফতার কর্মসূচিতে অরাজনৈতিক রাখতে দলীয় কোনও নেতাকে তিনি সঙ্গে রাখেননি।
এদিন ফুরফুরা শরিফের একাধিক পীর ও সিংহভাগ পীরজাদা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ইফতারে অংশ নেন। ফুরফুরার মুসাফির খানাতে সেই ইফতার ছিল জমজমাট। এদিন পীরজাদা এবং পীর মুখ্যমন্ত্রীর কাছে একগুচ্ছ দাবি পেশ করেছেন। কয়েকজন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করার আগ্রহও দেখিয়েছেন। ইফতারে অংশগ্রহন করেই এদিন মুখ্যমন্ত্রী তাঁর ফুরফুরা সফর নিয়ে বিতর্কের পাল্টা প্রশ্ন তুলে দেন।
তিনি বলেন, আমার ফুরফুরায় ইফতারে আসার কথা প্রকাশ্যে আসতেই, কেউ কেউ প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। বলছেন, ইফতারে কেন যাচ্ছি, ভোট আছে তাই। আমি তাঁদের বলতে চাই, যখন পুষ্করতীর্থে যাই, কোনও প্রশ্ন ওঠে না। কালীপুজো, দুর্গোৎসবে অংশ নিই, প্রশ্ন ওঠে না। খ্রিস্টান ও জৈন ধর্মালম্বীদের অনুষ্ঠানেও অংশ নিই, কিন্তু প্রশ্ন ওঠে না। তাহলে ইফতার নিয়েই প্রশ্ন কেন? আমি দোল উৎসবেও শুভেচ্ছা জানিয়েছি, আবার ইফতারেও অংশ নিয়েছি। বাংলার সংস্কৃতির সমন্বয়ের। সেই সমন্বয়ের ধারা এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। একাধিক পীর ও পীরজাদারাও বক্তব্য রাখতে গিয়ে সমন্বয়ের প্রশ্নে সওয়াল করেছেন। এদিন ফুরফুরা শরিফে প্রায় একঘণ্টা ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন