পুরুলিয়া জেলা প্রকৃতির অপরূপ রূপে সজ্জিত। ছুটি কাটাতে ভিন্ন ভিন্ন রূপে আবির্ভূত হয় এই জেলা। বিশেষ করে অযোধ্যা পাহাড়। সারা বছর ধরে পর্যটকদের আসা যাওয়া চলে। এখানকার মাটি রুখা মাটি। কিন্তু এই জেলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেশ বিদেশের মানুষকে টেনে নিয়ে আসে। গ্রীষ্মের দাবদাহ উপেক্ষা করে মানুষ হারিয়ে যায় পুরুলিয়ার অপরূপ সৌন্দর্যে।
‘বুরু’ শব্দের অর্থ হল – পাহাড়। এখানে নানান রকমের গাছ দেখা যায়। মহুয়া, শাল, সেগুন, পলাশে মোড়া মাথা বনাঞ্চলে রয়েছে মাথা বনবাংলা। পর্যটকরা আগে থেকে বুকিং করে এখানে থাকতে পারেন। চাঁদনী রাতে হারিয়ে যেতে পারেন কোনো রূপকথার জগতে।
মাথার বুকে ইতিহাস জ্বলজ্বল করছে। মাথায় ১৯৯৬ সালে আশুতোষ ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে ছৌ নাচের আসর বসেছিল। সেখানে ভূমিত গভীর সিং মুড়া মহিষাসুরের ভূমিকায় নৃত্য প্রদর্শন করেছিলেন। এখানেই লোয়াকুই গ্রামে বাস করেন নাচনীর নাচের শিল্পী সরস্বতী দেবী।
মাথা বুরুতে মেলা বসে ১লা মাঘ। আইখান জাঁতার দিনের। এই দিন থেকেই নতুন করে সব কাজ শুরু করেন আদিবাসী মানুষেরা। দূর দূরান্তের গ্রাম থেকে মানুষ আসেন মেলায়। বাসে, ট্রেকারে উপরে পড়া জিনিস, স্থানীয় খাবার বিক্রি হয়। ভিজিটাটার স্বাদ এককথায় অসাধারণ। পাহাড়ের নিচে যেমন মেলা বসে তেমনি পাহাড়ের উপরেও মেলা বসে। দম নিয়ে পাহাড়ের এবড়ো খেবড়ো রাস্তা ধরে উপরে উঠতে পারলে দেখতে পাবেন পাহাড়ের ঢেউখেলানো সারি। আহা! চোখ জুড়িয়ে যায় প্রকৃতির ওই শোভা দেখে। পাহাড়ের উপরে প্রকৃতির পুজো হয়। বড় বড় পাথর চারিদিকে। পুজোর পর বলিও হয়। যারা মাথার মেলায় আসবেন তাদের খুব সুন্দর একটি অভিজ্ঞতা হবে একথা হলফ করে বলতে পারি। পাহাড়ে উঠলে আর নামতে ইচ্ছে করবে না। তবু নামতে হবে। সূর্য যত পশ্চিমে ঢলে পড়বে ততই মাথা বুরু মেলা চত্বর ফাঁকা হতে থাকবে। সেই ফাঁকা মেলা প্রাঙ্গনে দাঁড়ালে মনে হবে- মেলা শেষ হয়নি এখনো। ওই তো পাহাড়ে দলে দলে মানুষের উঠানামা চলছে। সেই মায়াবি অন্ধকারে দাঁড়িয়ে মনে হবে নিজের যেন পুনরুদ্ধার হয়েছে।
কীভাবে আসবেন হাওড়া থেকে ট্রেন ধরে বরাভূম স্টেশনে নেমে গাড়ি ভাড়া করে মাথা আসা যায়। ১লা মাঘ এসে মেলা দেখতে পাবেন। বাকি সময় মাথা কোলাহলশূন্য থাকে।
পর্যটকরা আসেন অযোধ্যা পাহাড়ও। কেবল অযোধ্যা পাহাড় অংশটুকুই ভ্রমণ করেন। অথচ বাঘমুন্ডি পর্বতমালার অযোধ্যা পাহাড়ের কোলে রয়েছে মাথা বনাঞ্চল, মাঠাবুরু। পর্যটকদের বেশিরভাগই এই মাথা বনাঞ্চল ঘুরে দেখেন না। নীল আকাশের নিচে মাঠার সৌন্দর্য এমনই যে যেকোনো পর্যটকের হৃদয়, মনকে নিমেষে মুক্তি দিতে পারে। প্রকৃতির মাঝেই তো রয়েছে ঈশ্বর। আর সেই ঈশ্বর দর্শন করা যায় মাঠাবুরুতে।
মাঠাবুরুর নীচেই মাথা বনাঞ্চল।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন