নয়াদিল্লি: দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি যশোবন্ত ভার্মার বাড়ি থেকে ১৫ কোটি নগদ উদ্ধার ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে। রিপোর্ট অনুযায়ী, অভিযুক্ত বিচারপতিকে বদলির পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে তদন্তের প্রক্রিয়াও শুরু করেছে সুপ্রিম কোর্ট। শুধু তাই নয়, তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে ওই বিচারপতিকে পদ থেকে সরাতে ইমপিচমেন্টের প্রক্রিয়াও শুরু হতে পারে বলে খবর।
অতীতে বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক বিচারপতির বিরুদ্ধে ভারতে ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু করা হলেও শেষ পর্যন্ত কোনওবারই তা সফল হয়নি। কোনও অভিযুক্ত বিচারপতিকে পদ থেকে সরাতে ইমপিচমেন্টের এই প্রক্রিয়াও বেশ জটিল।
ভারতের সংবিধানে সুনির্দিষ্টভাবে ‘ইমপিচমেন্ট’ শব্দটির উল্লেখ নেই। তবে সেই সংক্রান্ত প্রক্রিয়া অন্তর্নিহিত রয়েছে ১২৪ (৪) অনুচ্ছেদে। পাশাপাশি, কোনও বিচারপতিকে পদ থেকে সরানোর প্রক্রিয়া বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে ১৯৬৮ সালের জাজেস এনকোয়ারি অ্যাক্টে। ইমপিচমেন্টের প্রক্রিয়া শুরুর জন্য প্রথমেই এবিষয়ে সংসদে একটি প্রস্তাব পেশ করতে হয়। এই প্রস্তাব পেশের জন্য লোকসভায় অন্তত ১০০ জন বা রাজ্যসভায় অন্তত ৫০ জন সদস্যের স্বাক্ষর লাগে। এরপর সেই প্রস্তাব লোকসভার স্পিকার বা রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে পেশ করতে হয়। সেই ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবটি স্পিকার বা চেয়ারম্যান গ্রহণ করতে পারেন, খারিজ করেও দিতে পারেন। সেই সিদ্ধান্ত তাঁর।
স্পিকার বা চেয়ারম্যান ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবটি গ্রহণ করলে তিনি তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। সেই কমিটিতে রাখা হয় দেশের প্রধান বিচারপতি বা সুপ্রিম কোর্টের কোনও বিচারপতি, কোনও হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি এবং স্পিকার বা চেয়্যারম্যানের মনোনীত কোনও বিচারক। এরপর ওই কমিটি সংশ্লিষ্ট বিচারপতির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি নিয়ে তদন্ত করে। তার ভিত্তিতে চার্জ গঠন করে। তদন্তে যদি দেখা যায় সংশ্লিষ্ট বিচারপতির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি সত্যি তাহলে সেই তদন্ত রিপোর্ট নিয়ে বিতর্কের জন্য পেশ করা হয় সংসদের সেই কক্ষে যেখানে ইমরিচমেন্ট প্রস্তাবটি প্রথম পেশ করা হয়েছিল। আর যদি তদন্তে দেখা যায় অভিযুক্ত বিচারপতি দোষী নন, তাহলে ইমপিচমেন্টের প্রক্রিয়া সেখানেই শেষ হয়ে যায়। আর তদন্ত কমিটির রিপোর্টে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব নিয়ে ভোটাভুটি হয়। সংসদে দুই কক্ষেই সেই প্রস্তাব পাশ করাতে হয়। এজন্য প্রস্তাবের পক্ষে সংশ্লিষ্ট কক্ষের অধিকাংশ সদস্য ও ভোটাভুটির সময় উপস্থিত দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন দরকার হয়। সংসদের দুই কক্ষের অনুমোদন লাভের পর প্রস্তাবটি যায় রাষ্ট্রপতির কাছে। দোষী প্রমাণিত বিচারপতিকে পদ থেকে সরাতে নির্দেশ জারি করেন রাষ্ট্রপতি।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন