রানাঘাট: একটি, দু’টি নয়, প্রায় একশোর কাছাকাছি কর্মীপদ শূন্য। আইসিডিএস কর্মীর অভাবেই কী প্রভাব পড়ছে নাবালিকা বিয়ের প্রবণতায়? ধানতলা থানায় নাবালিকা বিয়ের ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই উঠছে এই প্রশ্ন। উত্তর খুঁজতে গিয়ে শিশু বিকাশ দপ্তরের কর্মী সঙ্কটের দিকটিই ফুটে উঠেছে। প্রশাসনিক ব্যর্থতায় মা হচ্ছেন নাবালিকারা। গত সোমবার রানাঘাট পুলিস জেলার ধানতলা থানার গ্যাস গোডাউন পাড়ার একটি মন্দিরে নাবালিকার বিয়ে হয়। পুলিস বর ও কনে পক্ষকে থানায় নিয়ে গেলেও স্রেফ মুচলেকা নিয়েই ছেড়ে দেয়। এতে পুলিস ও ব্লকের শিশু বিকাশ বিভাগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এলাকার মন্দিরে নাবালিকা বিয়ের আয়োজন হচ্ছে অথচ খবর পেলেন না সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিক। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের নথিই বলছে জেলায় নাবালিকা অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার সংখ্যা উদ্বেগজনক। এর মধ্যে কেবল রানাঘাট-২ ব্লকে শেষ ১০ মাসে ১৯ বছরের কম বয়সি মায়ের সংখ্যা ৩২৮। অর্থাৎ দেড় অথবা দুই বছরের মধ্যে তাদের বিয়ে হয়েছে। অর্থাৎ ওই নাবালিকাদের বিয়ে হলেও কেউ খবর পায়নি।
শিশু বিকাশ দপ্তর সূত্রের খবর, নাবালিকা বিয়ের খবর সাধারণত আইসিডিএস কর্মীদের উদ্যোগেই পাওয়া যায়। কিন্তু ব্লকগুলিতে প্রায় একশোর কাছাকাছি আইসিডিএস কর্মীপদ খালি পড়ে রয়েছে। রানাঘাট-২ ব্লকে ৬০০ আইসিডিএস কর্মী থাকার কথা থাকলেও রয়েছেন ৫০০ জনের মতো। স্বাভাবিকভাবেই তাঁদের অনেককেই দুই অথবা তার চেয়েও বেশি সেন্টারের দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে। এমতাবস্থায় এলাকায় নাবালিকা বিবাহের খবর রাখা তাঁদের পক্ষেও সম্ভব নয়।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন