নয়াদিল্লি: ফ্লোরিডা থেকে গুজরাতের মেহসানার দূরত্ব প্রায় ১৪ হাজার কিলোমিটার। তবে দূরত্ব যতই হোক, ঘরের মেয়েটি যে তাঁদের অন্তরেই থাকেন! ভোর ৩টে ২৭ মিনিট। সুনীতা উইলিয়ামসকে নিয়ে ‘ড্রাগন’ ক্যাপসুল ফ্লোরিডার সমুদ্রে নিরাপদে অবতরণ করল। উৎসবে মেতে উঠল তাঁর পৈতৃক গ্রাম ঝুলাসান। ফাটল বাজি। চলল মিষ্টি বিলি। উঠল হর হর মহাদেব স্লোগানও। সুনীতার ছবি নিয়ে গ্রামের স্কুল থেকে ডোলা মাতার মন্দির পর্যন্ত বের হল শোভাযাত্রা। ‘বেটি’র নিরাপদে ফেরার কামনায় গত ২৭ জুন থেকে ডোলা মাতার মন্দিরে ‘অখণ্ড জ্যোতি’ জ্বালিয়ে রেখেছেন গ্রামের মানুষ। সেই কামনা পূরণ হওয়ায় মেহসানা জেলার এই ছোট্ট গ্রামটিতে খুশির হাওয়া।
সুনীতার বউদি ফাল্গুনী পান্ডিয়ার দাবি, বিশ্বখ্যাত নভশ্চর শীঘ্রই ভারতে আসবেন। সঠিক দিনক্ষণ এখনও জানা নেই। তবে চলতি বছরেই তিনি আসতে পারেন। এক তুতোবোন জানান, কাজু কাটলি খেতে ভালোবাসেন সুনীতা। গত ১৯ সেপ্টেম্বর জন্মদিন উপলক্ষ্যে পরিবারের তরফে প্রিয় এই মিষ্টি পাঠানো হয়েছিল। আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে বসে তা খেয়েওছিলেন তিনি। সুনীতা যখন গ্রামে আসবেন, তাঁর জন্য আরও বেশি পরিমাণে থাকবে কাজু কাটলি। আর হ্যাঁ, সঙ্গে থাকবে সিঙাড়াও। গ্রামেও বিলি হবে কাজু কাটলি ও সিঙাড়া।
খুশির এই দিনেই সুনীতার বউদি ফাল্গুনী বলেন, আমি কুম্ভে যাওয়ার আগে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছিলাম। মহাকাশ থেকে কুম্ভকে দেখা যাচ্ছে কি না, জানতে চেয়েছিলাম। তিনি আমাকে মহাকাশ থেকে তোলা কুম্ভের একটি ছবি পাঠান। মহাকাশচারীরা যাতে তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কর্তাবার্তা বলতে পারেন, উন্নত প্রযুক্তির সৌজন্যে তা নিশ্চিত করেছে নাসা। সুনীতা উইলিয়ামসের বাবা দীপক পান্ডিয়ার জন্ম মেহসানা জেলার এই ঝুলাসান গ্রামেই। এখনও পর্যন্ত মোট তিনবার ভারতে এসেছেন সুনীতা। ২০০৮ সালে পদ্মভূষণ সম্মানে ভূষিত করা হয় নাসার এই নভশ্চরকে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন