কলকাতা: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষমতা ধরে রাখার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামের এক সভায় তিনি আগামী নির্বাচনে ২১৫টির বেশি আসন পাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। এই প্রেক্ষিতে বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বিজেপিকে কড়া বার্তা দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মানুষ বিজেপিকে যোগ্য জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।
আগামী বছর এপ্রিল-মে মাসে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা। তবে, এক বছর আগে থেকেই নির্বাচনী উত্তাপ শুরু হয়ে গেছে। তৃণমূল কংগ্রেস ভোটের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে এবং ভোটমুখী সংগঠনকে চাঙ্গা রাখতে দলীয় কর্মীদের একাধিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিধানসভায় স্বাস্থ্য দপ্তরের বাজেট নিয়ে আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসাথী, কন্যাশ্রী-সহ একাধিক প্রকল্প আজ মডেল হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। রাজ্য সরকার বাংলার মানুষের পাশে আছে এবং মানুষও তৃণমূলকে সমর্থন জানাচ্ছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, বিজেপি ভোট এলেই বিভাজনের রাজনীতি করে। তিনি বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস জাত-পাতের রাজনীতি করে না। তিনি আরও বলেন, বিজেপি খুন ও ধ্বংসের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে, যেখানে তৃণমূল কংগ্রেস শান্তির পথে বিশ্বাসী। ভোট এলেই বিজেপি বিভাজনের রাজনীতি করে, এমন অভিযোগ এর আগেও উঠেছে।
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগেও বিজেপি বিভাজনের রাজনীতি করবে বলে এখন থেকেই ইঙ্গিত পেয়ে সুর চড়িয়েছে তৃণমূল। সেখানে রাজ্যের শাসক দলের স্পষ্ট বক্তব্য, আমরা জাত-পাতের রাজনীতি করি না। মমতার কথায়, বিজেপির আমদানি করা নিজস্ব ধর্ম। ওরা খুন, ধ্বংসের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। কিন্তু আমরা তা করি না। আমরা বিশ্বাস করি, শান্তির ললিত বাণীতে। ওরা অন্যকে সম্মান জানাতে গিয়ে নিজের মাতৃভূমি বাংলাকে অসম্মান করছে।
বঙ্গে ভোটের উত্তাপ শুরু হতেই ধর্মকে হাতিয়ার করে বিজেপিকে রাজনীতির ময়দানে নামতে দেখা গিয়েছে। যে প্রসঙ্গে মমতার বক্তব্য, কেউ বলছে হিন্দু-সিন্ধু ভাই ভাই। কিন্তু বিহার, ত্রিপুরা, উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে যাঁরা বাংলায় এসে চিকিৎসা করাচ্ছেন, তাঁদের খোঁজ (বিজেপি) রাখে না। অন্য রাজ্যের মানুষ বাংলায় এসে বিনা পয়সায় চিকিৎসা করিয়ে যাচ্ছেন। তাই কোনও রাজনৈতিক দলের মেডেল আমরা চাই না। আমরা সকলকে নিয়ে চলতে চাই।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন