কলকাতা: আন্তর্জাতিক মঞ্চে আগেই স্বীকৃতি পেয়েছিল মমতার কন্যাশ্রী। এবার বিশ্বের স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে জায়গা করে নিল স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প। প্রায় বিনা খরচে ব্রেস্ট ক্যান্সার রোগীদের কেমোথেরাপি সম্পূর্ণ করার জন্য স্বাস্থ্য সাথীর সাফল্য জায়গা করে নিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল 'দি ব্রেস্ট'-এ। শুধু তাই নয়, ক্যান্সারের মতো মারণ রোগে কি করে বিনা খরচে বাংলার জনগণকে চিকিৎসা পরিষেবা দিচ্ছে স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প, ভার গবেষণাপত্র নিয়েও আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সম্মেলন সেন্ট গ্যালন ব্রেস্ট ক্যান্সার কনফারেন্স ২০২৫- এ আলোচনা হতে চলেছে। আগামী সপ্তাহেই অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তব্য
রাখতে লন্ডনে পাড়ি দিচ্ছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর লন্ডন সফরের আগেই বাংলার জনমুখী প্রকল্প আন্তর্জাতিক সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছল। ৯২ শতাংশ ব্রেস্ট ক্যান্সার রোগীর কেমোথেরাপি সম্পূর্ণ করার ই রেকর্ড বাংলায়।
এবছর সেন্ট গ্যালন ব্রেস্ট ক্যান্সার কনফারেন্স চিকিৎসক সম্মেলন হচ্ছে অস্ট্রিয়ায়। ওই সম্মেলনে যোগ দেবেন বাংলার চিকিৎসক প্রতিনিধিদের একটি দল। সেখানে চিকিৎসকরা তুলে ধরবেন কি করে, ক্যান্সারের মতো রোগে স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের মাধ্যমে চিকিৎসার খরচ কমানো সম্ভব হচ্ছে। বহু ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে, আর্থিক কারণে মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত বিশেষত ব্রেস্ট ক্যান্সারের ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ কেমোথেরাপি নিতে পারেন না রোগীরা। মাঝপথে কেমোথেরাপি বন্ধ করে দেয় তারা। অনেক রোগীরই ক্যান্সার চিকিৎসা সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয় না। যার ফলে দেশে বহু রোগীর চিকিৎসা সম্পূর্ণ
না করার জন্য মৃত্যু পর্যন্ত হচ্ছে। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে এই স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের মাধ্যমে বাংলায় প্রায় ১০ শতাংশের ওপরে রোগী তাদের কেমোথেরাপি নিচ্ছেন। এই প্রকল্প ৭০ শতাংশ রোগীর চিকিৎসা খরচ কমিয়ে দিয়েছে। স্বাস্থ্য সাথী কার্ড এর মাধ্যমে খরচ কমে যাওয়ায় প্রায় নিখরচায় সম্পূর্ণ কেমোথেরাপির নিতে পারছেন ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীরা। পরিসংখ্যান বলছে, গোটা দেশের মধ্যে শুধুমাত্র বাংলাতেই ক্যান্সার আক্রান্ত ১২ শতাংশ রোগীর চিকিৎসা সম্পূর্ণ হচ্ছে। যা গোটা ভারতের মধ্যে রেকর্ড। অন্য কোন রাজ্য ক্যান্সারের চিকিৎসার ক্ষেত্রে বাংলার এই সাফল্যের ধারে কাছে নেই।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন