নয়াদিল্লি: শুধু এক বছরে প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা থেকে বিমা সংস্থাগুলির মুনাফা হয়েছে ৮৩ হাজার কোটি টাকার বেশি। বিমা পেয়ে কৃষকদের যা ক্ষতিপূরণ দিতে হচ্ছে, সেই তুলনায় বিমা সংস্থাগুলির মুনাফা হচ্ছে বহুগুণ বেশি। বিগত ১০ বছরে মোদি সরকার প্রায় প্রতি বছর একটি করে নতুন বিমা প্রকল্প চালু করেছে। কখনও শ্রমিকদের জন্য, কখনও কৃষকদের, কখনও গরিব নাগরিকদের সরকারি এবং বেসরকারি বিমা সংস্থার মাধ্যমে বিমা প্রকল্প চালু হয়েছে। কৃষকদের প্রধান বিমার নাম প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা। এই বিমা প্রকল্প চালু হওয়ার পর থেকেই কৃষি ঋণের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে এই বিমা। অর্থাৎ নির্ধারিত তালিকাভুক্ত ফসলের ক্ষেত্রে কৃষি ঋণ গ্রহণ করলে, বিমা তার সঙ্গেই যুক্ত হয়ে যায়।
কৃষককে দিতে হবে প্রিমিয়াম। কৃষি ঋণ বছর বছর প্রবলভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই বাড়ছে বিমার সংখ্যা এবং প্রিমিয়াম। কৃষকরা যাতে ফসল বিমায় যুক্ত হয়, সেই লক্ষ্য নিয়ে রীতিমতো অভিযান চালানো হয় নিয়ম করে। আর তারই জেরে বিপুল সংখ্যক কৃষক প্রতি বছর তালিকাভুক্ত হচ্ছে বিমা প্রকল্পে।
২০২৪-২৫ সালে আশাতীত রেকর্ড সংখ্যক নতুন কৃষি বিমা নথিভুক্ত হয়েছে। ৪ কোটি। চলতি আর্থিক বছরে সেই সংখ্যা ছাপিয়ে যেতে চলেছে। বছরের শুরুতেই ৩ কোটি ৯৭ লক্ষ স্পর্শ করেছে। আর এসবের ফলশ্রুতি হল, বিমা সংস্থাগুলির কাছে প্রিমিয়াম জমা পড়ছে পাহাড়প্রমাণ। বিমার টাকা মেটাতে হচ্ছে অনেক কম। অর্থাৎ বাকিটা মুনাফা। ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরে মোট প্রিমিয়াম জমা পড়েছে ২ লক্ষ ৫৭ হাজার ৫৬৫ কোটি টাকা। কৃষকদের মোট বিমা মেটাতে হয়েছে ১ লক্ষ ৭৪ হাজার ৪৩২ কোটি টাকা। সুতরাং বিমা সংস্থাগুলির সরাসরি মুনাফা হয়েছে ৮৩ হাজার কোটি টাকা।
প্রসঙ্গত প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনার প্রিমিয়ামের একাংশ দেয় কৃষকরা এবং বাকিটা ভর্তুকি হিসেবে দেয় সরকার। অর্থাৎ করদাতাদের টাকা। বিগত আর্থিক বছরে মোট প্রিমিয়াম জমা পড়েছিল ২ লক্ষ ৩০ হাজার ৬২৭ কোটি টাকা। কৃষকদের বিমা বাবদ দিতে হয়েছে ১ লক্ষ ৭৩ হাজার ৯৩৮ কোটি টাক। অর্থাৎ বিমা সংস্থাগুলির নিট মুনাফা ছিল ৫৬ হাজার কোটি টাকার বেশি। সরকারি সূত্রে জানা যাচ্ছে, এতদিন সিংহভাগ বিমা গ্রাহক ছিল ঋণগ্রাহক। ক্রমেই ঋণপ্রাপক ছাড়া সাধারণভাবেও বৃদ্ধি পাচ্ছে কৃষকদের বিমায় যুক্ত হওয়ার প্রবণতা।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন