কলকাতা: কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া ইন্জিনির রায়য়ের অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর পুলিশের। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু, অধ্যাপক ওমপ্রকাশ মিশ্রের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের। খুনের চেষ্টা, মহিলাকে মারধর, শ্লীলতাহানি, হুমকি-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু পুলিশের। পুলিশ সূত্রে খবর, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ৩০২, ৩০৭(২), /৭৪ /৩৫৪(এ) /৫০৬/ ৩৪(এ) ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ঘটনা ঘটে তার প্রেক্ষিতে প্রথম বর্ষের পড়ুয়া ইন্জিনির রায়য়ের তরফে ইমেল মারফত একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। তবে অভিযোগ, পুলিশ এর প্রেক্ষিতে কোনও মামলা রুজু করেনি। এরপর বুধবার একটি মামলা দায়ের হয় হাইকোর্টে। সেখানে ছাত্রদের হয়ে আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, ‘সাত জনের এফআইআর-এ মিথ্যে দাবি করা হয়েছে। ছাত্রদের কোনও এফআইআর নেওয়াই হয়নি। কিন্তু যারা ছাত্রদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে তাদের এফআইআর নেওয়া হয়েছে’। এরপরই কেন এফআইআর নেওয়া হয়নি তা রাজ্যর কাছে জানতে চান বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। পরবর্তীতে তিনি স্পষ্ট নির্দেশ দেন, আহত ছাত্র ইন্জিনির রায়য়ের অভিযোগ এফআইআর হিসাবে নিতে হবে।
পুলিশ সূত্রে খবর, এরপর বৃহস্পতিবার শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু, তাঁর গাড়ির চালক, ওমপ্রকাশ মিশ্র-সহ আরও একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কয়েকটি ধারাতে এফআইআর রুজু হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, তাঁদের বিরুদ্ধে মারধর, শ্লীলতাহানি, হুমকি-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ইন্জিনিরের বাবা অমিত রায় বলেন, ‘গণতান্ত্রিক দেশে পুলিশের প্রশাসনের উচিত সেই দায়িত্ব পালন করা। আর সেটা পালন না করাই অগণতান্ত্রিক। তবে কোর্ট বুঝিয়ে দিল একটা অংশ অবধি অগণতান্ত্রিক কাজ করে তবে এখনো কোর্ট রয়েছে যেখানে বিচার পাওয়া যাবে’।
গত ১ মার্চ, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ওয়েলফেয়ারের বার্ষিক সাধারণ সভা ছিল। অভিযোগ, ওইদিন সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে অশান্তি তৈরির চেষ্টা শুরু করে বাম ছাত্ররা। বেলার দিকে পরিস্থিতি উত্তাল হয়ে ওঠে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে থাকা তৃণমূলের শিক্ষাবন্ধু সমিতির অফিসে ব্যাপক ভাঙচুর শুরু হয়। আগুনও লাগে। অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছলে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর গাড়ির চাকার হাওয়াও খুলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। শিক্ষামন্ত্রীকে চিঠি পান খোদ শিক্ষামন্ত্রী। জখম হন যাদবপুরের দুই ছাত্র। অভিযোগে ওঠে, শিক্ষামন্ত্রীর গাড়ির চাকায় আহত হন ইন্জিনির। পরবর্তীতে ওই ছাত্র যাদবপুর থানার দ্বারস্থ হলেও পুলিশ অভিযোগ নেয়নি বলেও অভিযোগ ওঠে। এরপরই বুধবার পুলিশকে ভর্ৎসনা করে কলকাতা হাইকোর্ট। ইন্জিনির রায়য়ের বিরুদ্ধে কেন এফআইআর দায়ের করা হল না, সেই প্রশ্নও তোলেন বিচারপতি।
বুধবারই বিচারপতি বলেছিলেন, ‘যাদবপুরের ঘটনায় পুলিশ একপেশে তদন্ত করছে। অথচ রাজ্যের উচিত ছিল অভিভাবকের মতো আচরণ করা’। হাইকোর্টের ভর্ৎসনার পরই যাদবপুর কাণ্ডে দায়ের হল এফআইআর। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, খুনের চেষ্টার ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন