ওয়াশিংটন: অবশেষে যাত্রা শুরু করল এলন মাস্কের সংস্থা স্পেসএক্সের ফ্যালকন-৯ রকেট। সৌজন্যে নাসার ‘ক্রু ১০’ অভিযান। উদ্দেশ্য একটাই, সুনীতা উইলিয়ামস ও তাঁর সঙ্গী বুচ উইলমোরকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা। শনিবার ভারতীয় সময় ভোর ৪টে ৩৩ নাগাদ কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে ফ্যালকন ৯ রকেটের সফল উৎক্ষেপণ করা হয়। ‘ক্রু ১০’ –এ রয়েছেন চার মহাকাশচারী নাসার অ্যান ম্যাক্লেন, নিকোল আইয়ার্স, জাপানি মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (জাক্সা) তাকুয়া ওনিশি ও রাশিয়ার রসকসমসের সদস্য কিরিল পেসকভ। তাঁরাই হবেন স্পেস স্টেশনের নয়া বাসিন্দা। আর সব ঠিক থাকলে বুধবার ‘ক্রু ৯’ ক্যাপসুলে চেপে পৃথিবীর দিকে রওনা হবেন সুনীতারা।
জ্যোতির্বিজ্ঞানী দেবীপ্রসাদ দুয়ারী সংবাদপত্রে লিখেছেন, গত ৫ জুন বোয়িং স্টারলাইনার মহাকাশযানে চেপে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে গিয়েছিলেন সুনীতা উইলিয়ামস এবং বুচ উইলমোর। মাত্র আটদিন পরেই তাঁদের ফিরে আসার কথা ছিল পৃথিবীতে। কিন্তু বোয়িং স্টারলাইনারের কিছু ত্রুটির কারণে তা অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে যায়। গত ৯ মাস ধরে সুনীতাদের নিয়ে শুধু সাধারণ মানুষ নন, নাসার বিজ্ঞানীরা পর্যন্ত বেশ উদ্বিগ্ন ছিলেন।
প্রথমে শোনা গিয়েছিল, ফেব্রুয়ারি মাস নাগাদ সুনীতাদের ফিরিয়ে আনতে ‘ড্রাগন ক্রু ১০’ নামে একটি মহাকাশযান পাঠাবে স্পেসএক্স। পরে সেই তারিখ পিছিয়ে ১২ মার্চ করা হয়। কিন্তু উৎক্ষেপণের মাত্র ৪৪ মিনিট আগে বাতিল হয়ে যায় উড়ান। কারণ, ফ্যালকন ৯ রকেটকে ধরে রাখার জন্য যে বাহুগুলি ছিল, তার একটিতে হাইড্রলিক সিস্টেমে বাতাস আটকে গিয়েছিল। সেই ত্রুটি সারিয়ে এদিন সেই রকেটে চেপে ২৮ ঘণ্টার পথ পাড়ি দিয়েছে ‘ক্রু ১০’। রবিবার সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ তারা ‘ডক’ করবে ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪০০ কিমি দূরে থাকা স্পেস স্টেশনে।
এই ‘ডকিং’ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডকিংয়ের সঙ্গে সঙ্গেই যে ‘ক্রু ১০’-এর মহাকাশচারীরা আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে ঢুকে পড়বেন, এমনটা নয়। কিছু পদ্ধতি মানতে হবে। ডকিংয়ের বেশ কয়েকঘণ্টা পর তাঁরা প্রবেশ করবেন স্পেস স্টেশনে। তারপরই সুনীতা সহ সেখানকার সাতজনের সঙ্গে দেখা হবে তাঁদের। নতুন সদস্যদের দায়িত্ব হস্তান্তরে কেটে যাবে দু’-তিন দিন। নাসার শেষ বার্তা অনুযায়ী, ১৯ মার্চ সুনীতা-বুচ সহ চারজন রওনা দেবেন ‘ক্রু ৯’ ক্যাপসুলে চড়ে। ফ্লোরিডার উপকণ্ঠে প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে নেমে আসবে সেই ক্যাপসুল।
কিন্তু ফেরার সঙ্গে সঙ্গেই সুনীতারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন না। কারণ, দীর্ঘ ৯ মাস মহাশূন্যে থাকার ফলে তাঁদের শারীরিক কিছু পরিবর্তন ঘটেছে। ফলে পৃথিবীতে সুষ্ঠুভাবে বেঁচে থাকাটাই শক্ত। তাঁদের হাড়ের ঘনত্ব কমে আসা কিংবা চামড়া পাতলা হয়ে যাওয়া, রক্তাল্পতা, হৃদরোগের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। সেজন্য চিকিৎসকদের কড়া তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে সুনীতাকে। পুরনো অবস্থায় ফিরতে তিন-চারমাস সময় লেগে যেতে পারে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন