কলকাতা: স্বাস্থ্যের পর শিক্ষা। বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার মাত্রাছাড়া খরচে রাশ টানতে কয়েক বছর আগে স্বাস্থ্য কমিশন গঠন করেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। এই ক’বছরে অসংখ্য মানুষ তার সুফল পেয়েছেন। এবার বেসরকারি স্কুলের ফি-তে লাগাম দিতে তৎপর হয়েছে রাজ্য সরকার। কারণ, স্কুল ফি নিয়ে আপত্তি-অভিযোগের বহর দিন দিন বাড়ছে। কোথাও ভর্তির সময় লক্ষাধিক টাকা চাওয়া হচ্ছে। কোথাও আবার আচমকা বিজ্ঞপ্তি জারি করে মাসিক ফি দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে পরিকাঠামো উন্নয়ন, অনুষ্ঠান ইত্যাদির নামে নানা সময় টাকা নেওয়া হচ্ছে। সন্তানের স্কুলের খরচ মেটাতে জেরবার হচ্ছেন অভিভাবকরা। এনিয়ে শিক্ষাদপ্তরের কাছে লিখিত অভিযোগও করেছেন তাঁরা। এহেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে মধ্যবিত্তকে সুরাহা দিতে বিল আনতে চলেছে রাজ্য সরকার। তারপর আইন প্রণয়ন করে কমিশন গঠন করা হবে।
মঙ্গলবার বিধানসভা অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে এই প্রসঙ্গ উত্থাপিত হয়। বিজেপি বিধায়ক সত্যনারায়ণ মুখোপাধ্যায় প্রশ্ন করেন, ‘বেসরকারি স্কুলগুলি অনেক টাকা ডোনেশন নিচ্ছে। বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে আনার ব্যাপারে রাজ্য সরকারের কি কোনও ভাবনাচিন্তা রয়েছে?’ জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন, ‘বেসরকারি স্কুলগুলির ক্রমাগত ফি বৃদ্ধি, অভিভাবকদের আর্থিক সংগতি না দেখে অতিরিক্ত বোঝা চাপানোর অভিযোগ আমাদের কাছেও এসেছে। সমস্যা নিরসনে একটি কমিশন গঠনের জন্য আমরা বিল আনব। বিষয়টি এখন মুখ্যমন্ত্রীর বিবেচনাধীন রয়েছে। আমরা শীঘ্রই বিধানসভায় ওই বিল পাশ করাব। তবে কবে থেকে তা কার্যকর হবে, তা রাজ্যপালের স্বাক্ষরের উপর নির্ভর করছে।’

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন