দক্ষিণ ২৪ পরগনা: দুর্গা, ভাষা, মালাবতী, আলতাবতী, কালবোখরা...। তালিকায় রয়েছে এমন আরও নাম। এগুলি একেক প্রজাতির ধান। এক সময় সুন্দরবনের বিভিন্ন প্রান্তে এইসব ধানের চাষ হতো। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেসব এখন বিলুপ্তির পথে। নতুন নতুন প্রজাতি এসে যাওয়ায় পুরনো ধানের কদর কমে গিয়েছে। কিন্তু প্রাচীন কাল থেকে যুগ যুগ ধরে চাষ হওয়া এইসব ধান এখনও বাঁচিয়ে রেখেছেন সাগরের সুখদেব নাথ। বয়সে প্রবীণ এই কৃষকের সংগ্রহে রয়েছে বিলুপ্তপ্রায় এমন ৫২২ রকমের ধান ও তার বীজ। সমবায় গড়ে সেখানে এক প্রকার ছোটখাট ধানের মিউজিয়াম তৈরি করেছেন সুখদেববাবু।
তাঁর কথায়, ২০০৬ সাল থেকে সুন্দরবনের আনাচে-কানাচে ঘুরে কৃষকদের থেকে এইসব ধান সংগ্রহ করেছি। এই ধান একশো থেকে দেড়শো বছরের পুরনো। এই ধান সবই নোনা জলে হয়। কৃষি বিশেষজ্ঞদের দাবি, ব্রিটিশরা যখন এখানে বসবাস করতেন, তখন তাঁদের হাত ধরেই বিভিন্ন প্রজাতির ধান এসেছিল সাগর, কুলতলি, কাকদ্বীপ সহ বিভিন্ন জায়গায়। সেগুলি ধীরে ধীরে অবলুপ্ত হতে বসেছে। হাতেগোনা কয়েকজন প্রবীণ কৃষক এই ধরনের ধানের চাষ করেন এখন। এই সংগ্রহে এমন সব ধান আছে, যার নামকরণ হয়েছে কোনও না কোনও দেশের নামে। যেমন শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া, জাভা ইত্যাদি।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন