বহরমপুর: মেক্সিকান ড্রাগ ‘মেসকালাইন’ গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে মুর্শিদাবাদ সীমান্ত দিয়ে। এই সাদা গুঁড়ো ড্রাগ সিল করা প্যাকেটে করে লালগোলা দিয়ে ঢুকছে বলেই মনে করছে গোয়েন্দারা। অত্যন্ত দুষ্প্রাপ্য এই ড্রাগের ব্যাপক চাহিদা ভারতীয় বাজারে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই মাদকাসক্তদের ঘোরের মধ্যে নিয়ে যেতে পারে। তাই রেভ পার্টিতে যুবক যুবতীদের কাছে ব্যাপক চাহিদা এই ড্রাগের। পর্যাপ্ত জোগান না থাকায় এতদিন বাজারে সেভাবে প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি মেসকালাইন। হঠাৎ করেই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে এই ড্রাগের জোগান বাড়ায় স্বাভাবিক ভাবে উদ্বেগ বেড়েছে গোয়েন্দাদের। মাস ছয়েক আগে এদেশে প্রথম এই মাদকের ব্যবহারের খবর পায় নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (এনসিবি)।
দিল্লির একটি নৈশ পার্টিতে সামান্য পরিমাণে এই মাদক আনা হয়েছিল। তবে কীভাবে তা এদেশে ঢুকেছিল, সে ব্যাপারে খুব একটা তথ্য ছিল না গোয়েন্দাদের। তবে চলতি সপ্তাহে লালগোলা থেকে পাঁচটি প্যাকেটে এই মাদক উদ্ধার হওয়ায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সীমান্তরক্ষী বাহিনী আটরশিয়ার জিরো পয়েন্টের কাছ থেকে এই মাদক উদ্ধার করেছে।
সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গোয়েন্দা বিভাগের অনুমান হেরোইনের সঙ্গে যুক্ত থাকা মাদক কারবারিরা এই মেক্সিকান ড্রাগ ব্যবসা শুরু করেছে। ভারতে চাহিদা থাকায় মুর্শিদাবাদের খোলা সীমান্ত দিয়েই মাদক ঢুকছে। তারপর ট্রেন ও সড়কপথে সেই মাদকের ছোট ছোট প্যাকেট পৌঁছে যাচ্ছে মেগা সিটিগুলিতে। ক্যাকটাস গাছের সবুজ বীজ থেকে বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি হয় এই ড্রাগ। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং মেক্সিকোতে জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছিল।
মেক্সিকোর কিছু আদিবাসী তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে এই মাদক সেবন করত। তারপর ধীরে ধীরে বাইরের দেশে প্রভাব ছড়ানো শুরু করে। তবে কিছু রাশিয়ান গোষ্ঠী এলএসডি সরবরাহের সঙ্গে গোটা বিশ্ব বাজারে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে ফেলে। সেজন্য এই ড্রাগ মেক্সিকো ও আমেরিকার বাইরে প্রভাব ফেলতে পারেনি।
ম্প্রতি নতুন ড্রাগের খোঁজে থাকা যুব সমাজ এই দুষ্প্রাপ্য ক্যাকটাস গাছ থেকে তৈরি ড্রাগকে বেছে নিয়েছে। সাধারণত ওষুধের ফাঁকা ক্যাপসুলের মধ্যে ভরে সাদা পাউডার সহজেই গিলে ফেলা হয়। লালগোলায় একসময় হেরোইনের রমরমা কারবার ছিল। এই মাদকের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত অধিকাংশ পাচারকারী হয় জেলে রয়েছে, নাহলে ভিন রাজ্যে গা ঢাকা দিয়েছে। তবে বেশ কিছু ক্যারিয়ার জেল থেকে ছাড়া পেয়ে অন্য ব্যবসাতে মন দিয়েছে। তবে সম্প্রতি তারা সুযোগ পেলেই এই ধরনের দুষ্প্রাপ্য মাদকের কনসাইনমেন্ট পাচার করছে। ছোট ছোট প্যাকেটে লালগোলা থেকে মাদক নিয়ে কলকাতা পৌঁছে দিতে পারলে মিলছে মোট অঙ্কের টাকা। তবে অধিকাংশ ক্যারিয়ার কী ধরনের কনসাইনমেন্ট নিয়ে যাচ্ছে, এবং তার মধ্যে কী মাদক থাকছে, তা জানতে পারে না তারা। এই মাদকের স্থানীয়ভাবে বিক্রি করার সুযোগ না থাকায় ক্যারিয়ারদেরও খোঁজ পেতে সমস্যা হচ্ছে গোয়েন্দাদের।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন