ভবানীপুর: ছবিবিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে নাকি ভবানীপুরে ঘাঁটি গাড়ছেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী! ভবানীপুর বিধানসভার অন্তর্গত ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডে কার্যালয় তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নন্দীগ্রামের এই বিজেপি বিধায়ক। আগামী ১ মে এই কার্যালয় উদ্বোধন করতে চান তিনি। গতকাল ভবানীপুরের বিজেপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে এই নিয়ে তিনি আলোচনা করেন বলে জানা গিয়েছে। আরও জানা গিয়েছে, ১০০ জনের বেশি কর্মী নিয়ে একটি টিম তৈরি করা হচ্ছে। যারা মূলত ওই এলাকার তথ্য সংগ্রহ করবেন। তবে তাঁদের পরিচয় গোপন রাখা হবে।
ঘটনাচক্রে, ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডে কেবল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই নন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর বাড়ির ওই ওয়ার্ডেই। মমতার পরিবারের সদস্যরাও ওই ওয়ার্ডেই থাকেন। মুখ্যমন্ত্রীর ভাই কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় স্ত্রী কাজী বন্দ্যোপাধ্যায় ওই ওয়ার্ড থেকেই কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলর। তাই শুভেন্দু ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডে ভেড়ালে ভবানীপুর বিধানসভা এলাকায় রাজনৈতিক উত্তাপ চড়বে। মুখ্যমন্ত্রী ওয়ার্ডে শুভেন্দুর কার্যালয় করা নিয়ে দক্ষিণ কলকাতা বিজেপিতেও ঔৎসুক্য।
একুশের নন্দীগ্রামে নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজয়ের পর ভবানীপুরে থেকে উপনির্বাচনে জেতেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১১ সালে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর ভবানীপুর থেকে বিধানসভা নির্বাচনে দাঁড়ি দেন মমতা। একুশের নির্বাচনের আগে সেই ভবানীপুর বিধানসভা বিজেপির দখলে রাখতে কেন্দ্রে বাড়তি নজর দিয়েছেন শুভেন্দু।
কয়েকদিন আগে শুভেন্দু মন্তব্য করেছিলেন, নন্দীগ্রামের থেকে ভবানীপুরের জেতা সহজ। চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল তুলে ধরে বিজেপির বক্তব্য, ভবানীপুরের ৮টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৫টিতে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। ৬৩, ৭০, ৭১, ৭২ এবং ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডে এগিয়ে ছিল বিজেপি। আর ৭৩, ৭৭, ৮২ নম্বর ওয়ার্ডে এগিয়ে ছিল তৃণমূল। মমতা ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার। লোকসভা ভোটের নিরিখে এই ওয়ার্ডে বিজেপি পিছিয়ে মাত্র ২৭৯ ভোটে পিছিয়ে। মুখ্যমন্ত্রী যে ওয়ার্ডের ভোটার, সেখানে কার্যালয় খুলতে চান বিজেপি৷
জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার বৈঠকে শুভেন্দু জানিয়েছেন, ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডে নজর না দিলেও চলবে। ওই ওয়ার্ডটি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত। বিজেপির একাংশ বলছে, ৭৭ নম্বর ওয়ার্ড বাদ দিয়ে বাকি ওয়ার্ডগুলিতে ঠিকঠাক লড়াই করলে ভবানীপুরে বিজেপির জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও লোকসভা ভোটে দেখা গিয়েছে, তৃণমূল তিনটি ওয়ার্ডে এগিয়ে থাকলেও ভবানীপুর থেকে ৮ হাজার ২৭৯ ভোটের লিড পেয়েছিলেন তৃণমূল প্রার্থী মালা রায়। শুধু ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডেই তৃণমূল, বিজেপির চেয়ে ১২ হাজার ২৩৫ ভোট বেশি ভোট পেয়েছে।
ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে ভবানীপুরকে তিনি যে বাড়তি গুরুত্ব দিয়েছেন, গত কিছুদিনে ভবানীপুরে একাধিক কর্মসূচিতে বুঝিয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু। ভবানীপুরের থিয়েটার রোড এলাকায় নরেন্দ্র মোদির মন কি বাত শুনেছেন। এবার মুখ্যমন্ত্রীর ওয়ার্ডেই কার্যালয় খোলার কথা জানিয়ে নিজের বার্তা স্পষ্ট করে দিলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা। ভবানীপুরে বিজেপিকে ঠেকাতে এখন তৃণমূল কী পদক্ষেপ করে, সেটাই দেখার।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন