দুবাই: চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য ভারতের পরিবর্তিত স্কোয়াড ঘোষণার পর চমকে উঠেছিলেন অনেকেই। ১৫ জনের দলে ৫ জন স্পিনার! শেষ মুহূর্তে যশস্বী জয়সওয়ালকে বাদ দিয়ে বরুণ চক্রবর্তীকে দলে নিয়েছিলেন কোচ গৌতম গম্ভীর। তার জন্য তাঁকে কঠিন সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছিল। এমনকী, জাতীয় নির্বাচকমণ্ডলীর দুই সদস্যও দল নির্বাচনী বৈঠকের পর ঘনিষ্ঠ মহলে উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন, ‘একটু বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে। যতই ঘূর্ণি উইকেট হোক, একটা ম্যাচে কতজন স্পিনার খেলানো হবে?’
সময় দিয়েছে সদুত্তোর। ভুল প্রমাণিত হয়েছেন নিন্দুকেরা। গৌতম গম্ভীর বুঝিয়ে দিয়েছেন, তাঁর ক্রিকেট মস্তিষ্ক কতটা প্রখর। টুর্নামেন্টের আগে গোপনে দুবাইয়ের পিচ সম্পর্কে যে সব তথ্য জোগাড় করেছিলেন, তার ভিত্তিতেই দল গঠন ও রণকৌশল সাজিয়েছেন তিনি। ফলও মিলেছে হাতেনাতে। গ্রুপের শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে চার স্পিনার খেলিয়ে বাজিমাত করেছিল টিম ইন্ডিয়া। স্ট্যান্ডবাই থেকে মূল স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্তি এবং তারপর কিউয়িদের বিরুদ্ধে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন মিস্ট্রি স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী। হয়েছিলেন ম্যাচের সেরাও। আসলে তাঁর স্পিনের ধাঁধা ধরতে পারেননি কিউয়ি ব্যাটসম্যানরা। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধেও তিনি ছিলেন আংশিক সফল। দুবাইয়ের যে পিচে হবে রবিবাসরীয় খেতাবি লড়াই, তাতে স্পিনারদের প্রাধান্য থাকার সম্ভাবনা বেশি। কারণ, মরুশহরে গরম বাড়ছে। উইকেট খুব দ্রুত ভাঙবে।
সেক্ষেত্রে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে পারেন স্পিনাররা। সেই হিসেবে ফাইনালেও কোচ গম্ভীরের তুরুপের তাস হবেন বরুণই। শুরুতে কেন উইলিয়ামসনকে ফেরানোই হবে ভারতীয় বোলারদের বড় চ্যালেঞ্জ। সামি কিংবা হার্দিক সফল না হলে পাওয়ার প্লে’তে বরুণের হাতেই বল তুলে দিতে পারেন ক্যাপ্টেন রোহিত। কারণ, তিনি হলেন ভারতীয় দলের মুশকিল আসান। মরা গাঙে কীভাবে বান আনতে হবে, এই মহূর্তে সেটা বরুণের থেকে ভালো কেউ জানেন না। চলতি টুর্নামেন্টে মাত্র দু’ম্যাচ খেলে ঝুলিতে ভরেছেন ৭টি উইকেট। বোলিং বৈচিত্র্যই তাঁর সাফল্যের মূল রসায়ন। উল্টোদিক থেকে রবীন্দ্র জাদেজা, অক্ষর প্যাটেল কিংবা কুলদীপ যাদবরা একটু সাপোর্ট দিলে সাইড স্পিনে ফের নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিংয়ে ধস নামাতে পারেন তামিলনাড়ুর স্পিনারটি।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন