কলকাতা: শেষ ভরসা সোনাই! মধ্যবিত্তকে সোনা কোনওদিন বিশ্বাসঘাতকতা করেনি। মেয়ের বিয়ে হোক, অথবা স্বপ্নের বাড়ি তৈরি। সঙ্কট হোক, বা ঋণ। সোনাতেই আস্থা ছিল চিরকাল। আধুনিক যুগের তালে তাল মিলিয়ে ডাকঘরের স্বল্প সঞ্চয় হয়ে ব্যাঙ্কের ফিক্সড ডিপোজিট। এককালীন মিউচুয়াল ফান্ড, বা প্রতি মাসের এসআইপি। সব লগ্নিতীর্থ ঘুরে অবশেষে আবার মধ্যবিত্ত ফিরছে অতীতের ভরসাস্থলেই—অর্থাৎ, স্বর্ণতীর্থ।
বাণিজ্য সংগঠন তথা বণিকসভা এবং অর্থমন্ত্রক, সকলের কাছেই রিপোর্ট এসেছে, যতই মহামূল্যবান হয়ে উঠুক সোনা, এখনও সবথেকে বেশি ক্রেতা সেই মধ্যবিত্ত। জুয়েলারি অ্যান্ড বুলিয়ন অ্যাসোসিয়েশনের সমীক্ষা বলছে, মোটা সোনা ক্রয়ের ক্ষেত্রে ৫৬ শতাংশ ক্রেতাই মধ্যবিত্ত। ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বার্ষিক আয় করে, এমন ক্রেতার সংখ্যাই বেশি। ফিক্সড ডিপোজিটে সুদের হার কম। তাই মধ্যবিত্ত ঝুঁকেছিল শেয়ার মার্কেটে। ডাকঘরের পিপিএফ অথবা ব্যাঙ্কের রেকারিং ডিপোজিট ছেড়ে মধ্যবিত্ত প্রবেশ করেছে এসআইপিতে। কয়েক বছর ধরে যথেষ্ট উৎসাহব্যঞ্জক ছিল সেই লগ্নি-অভিজ্ঞতা। কিন্তু লোকসভা ভোটের পর থেকে শেয়ার বাজারে ধস নেমেছে। লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা স্রেফ উড়ে গিয়েছে।
সবথেকে বড় ধাক্কা এসেছে মধ্যবিত্তের জীবনে। আর তার প্রমাণ হল, এসআইপি অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে প্রচুর। এই যাবৎ ওঠানামা এবং হিসেব-নিকেশের টেনশনের পাশাপাশি এক ও একমাত্র সোনাই আকাশ ছুঁয়েছে। ১০ গ্রাম সোনার মূল্য যে কখনও ৯০ হাজার টাকা ছাপিয়ে যাবে একথা দু’বছর আগেও কল্পনা করা যায়নি। কিন্তু সোনার চাহিদা কমার বদলে বেড়ে চলেছে বলে সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে। আর তার জেরে বাড়ছে দামও। সোমবারই সোনা ও রুপোর দামে ফের রেকর্ড গড়েছে কলকাতা। সোমবার এই প্রথম ৮৮ হাজারের সীমা পেরিয়ে শহরে ২৪ ক্যারেট বিশুদ্ধতার খুচরো সোনার ১০ গ্রামের দর পৌঁছেছে ৮৮ হাজার ৩৫০ টাকায়। গয়না সোনা, অর্থাৎ ২২ ক্যারেট সোনার ১০ গ্রামের দাম এদিন পৌঁছে গিয়েছে ৮৪ হাজার টাকায়। পাশাপাশি এই প্রথম কলকাতায় রুপোর দাম এক লক্ষ টাকার সীমা ছুঁয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন