নয়াদিল্লি: বিশ্ব ক্ষুধা তালিকায় ১২৭ দেশের মধ্যে ভারতের স্থান ১০৫। কেন্দ্রীয় সরকারেরই সগর্ব প্রচার, দেশের ৮১ কোটি ৩৫ লক্ষ গরিব নাগরিককে বিনামূল্যে রেশনের ব্যবস্থা করে থাকে তারা। কিন্তু সেই দেশের সাধারণ গরিব জনতার জনপ্রিতিনিধিদের মাসিক আয় এখন প্রায় লাখ টাকারও বেশি। সাধারণ মানুষ যখন সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে, ঠিক তখন সংসদ সদ্যদের বেতন ও প্রাক্তন সাংসদদের পেনশন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হল। কেন্দ্রে বিজেপি সরকারের এই সিদ্ধান্ত একবাক্য মেনে নিয়েছে বিরোধীরাও৷ যতই হোক, নিজেদের লক্ষ্মীলাভ বলে কথা...
সোমবার সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী সাংসদের বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন। বেতন ও পেনশন বৃদ্ধি পেয়েছে এক ধাক্কায় ২৪ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১ লক্ষ ২৪ হাজার টাকা। বর্তমানে এমপিদের বেতন মাসে ১ লক্ষ টাকা। আর প্রাক্তন সাংসদদের পেনশন বেড়ে ২৫ হাজার টাকা থেকে হবে মাসে ৩১ হাজার টাকা। পাশাপাশি এমপিদের দৈনিক ভাতাও দু’হাজার টাকা থেকে বেড়ে হল আড়াই হাজার টাকা। মাসের বেতেনর পরও সংসদের অধিবেশন চলাকালিন দৈনিক উপস্থিতির জন্য এই ভাতা দেওয়া হয়। এছাড়াও রয়েছে লাখ লাখ টাকার সরকারি সুযোগ-সুবিধা!
প্রসঙ্গত বিগত চার বছর ধরে দেশের বেসরকারি সেক্টরে সব স্তরের সংগঠিত ক্ষেত্রের চাকরিতে গড় বেতন বৃদ্ধি হার ১০ শতাংশ। তথ্যপ্রযুক্তি সহ বহু সেক্টরের বেতন বৃদ্ধি হয়নি। ইনক্রিমেন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। এই আবহেই এমপিদের বেতন বাড়ল। বর্ধিত বেতন কার্যকর করা হবে ২০২৩ সালের এপ্রিল মাস থেকে। অর্থাৎ ২ বছরের এরিয়ার পাবেন এমপিরা।
১৯৬১ সালের আয়কর আইনের মূল্যবৃদ্ধি হার উপধারা অনুযায়ী পরিবর্তন করা হয় এমপিদের বেতন। এমপিরা দিল্লিতে একটি বাংলা অথবা ফ্ল্যাট পেয়ে থাকেন দিল্লির বাসভবন হিসেবে। বিভিন্ন এম পি নানাবিধ সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য এবং চেয়ারম্যান। এই কমিটিগুলির বৈঠক সাধারণত হয়ে থাকে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যেই। যখন যেখানে ওই বৈঠক করা প্রয়োজন ও প্রাসঙ্গিক সেখানেই তা হয়। সেই কমিটির বৈঠকে হাজির থাকার জন্যও একটি বিশেষ ভাতা পেয়ে থাকেন সংসদ সদস্যরা।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন