কলকাতা: চলতি অর্থবর্ষ, অর্থাৎ ২০২৪-২৫ সালের জন্য পিএফে ৮.২৫ শতাংশ সুদ ঘোষণা করেছে এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন। সূত্রের খবর, ওই সুদ দেওয়ার পর কেন্দ্রীয় সংস্থাটির হাতে উদ্বৃত্ত থেকে যাবে ৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি। দপ্তরের কর্তারা বলছেন, সেই টাকায় ৮.৫৫ শতাংশ হারে সুদ দেওয়াই যেত। তাহলে কেন সুদের হার বাড়ানো হল না?
জানা গিয়েছে, সাধারণ মানুষের থেকে আদায় করা যে টাকা সরকার বাজারে লগ্নি করে বসে আছে, তার থেকে আগামী অর্থবর্ষে যথাযথ ‘রিটার্ন’ আসবে না। অন্তত তেমনটাই ধারণা হর্তাকর্তাদের। পাশাপাশি এমন যে দু’টি সংস্থায় তারা টাকা লগ্নি করেছে, যা ইতিমধ্যেই দেউলিয়া হিসেবে ঘোষিত—আইএল অ্যান্ড এফএস এবং রিলায়েন্স ক্যাপিটাল। সেগুলি এখন ন্যাশনাল কর্পোরেট ল’ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন। এই সংস্থা দু’টিতে লগ্নি করা হয়েছিল ৩ হাজার ৩৭ কোটি টাকা।
পরিস্থিতি যেদিকে পৌঁছেছে, তাতে ন্যূনতম দেড় হাজার কোটি টাকা ফেরত পাওয়া যাবে কি না সন্দেহ। সেটাই চিন্তায় রেখেছে দপ্তরকে। আবার সাধারণ মানুষের টাকার আর একটা বড় অংশ যেখানে বিনিয়োগ করা হয়েছিল, তা ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি রিটার্ন দেয়। কিন্তু, এখন সেই রিটার্ন ১৪ শতাংশ কমে গিয়েছে।
পাশাপাশি এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড বা ইটিএফ বিক্রি করে যে থোক টাকা পাওয়ার আশা ছিল, সেই টাকাও ততটা পাওয়া যাবে না বলে মনে করছে দপ্তরের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োজিত আর্থিক বিশেষজ্ঞরা। সেখানে ইপিএফও দেড় হাজার কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা। তাই কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা উদ্বৃত্ত থাকলেও, তা সাধারণ মানুষকে সুদ বাবদ দিতে রাজি নয় তারা। অর্থাৎ, কেন্দ্রের ভুল সিদ্ধান্তের মাশুল গুনতে হচ্ছে ৭ কোটির উপর গ্রাহককে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন