নয়াদিল্লি: ‘ঘিবলি’ কার্টুনের পর এবার সচিত্র পরিচয়পত্র! নিমেষে তৈরি হয়ে যাচ্ছে আধার-প্যান কার্ড। সেটাও প্রায় নিখুঁত। সৌজন্যে চ্যাটজিপিটি। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহারের আরও একটি ভয়ঙ্কর দিক সামনে এল। এই প্ল্যাটফর্মে যে কেউ বানিয়ে ফেলতে পারছেন আধার-প্যান কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ নথির হুবহু নকল। দিন কয়েক আগে ‘ঘিবলি’ নিয়ে আম জনতাকে সতর্ক করেছিল পুলিস থেকে সাইবার বিশেষজ্ঞরা। কারণ, ‘ট্রেন্ডি নেটিজেনদের’ মুখাবয়ব ব্যবহার করে নতুন করে সাইবার জালিয়াতির আশঙ্কা চরমে। ডার্ক ওয়েবের হাতে যেতে পারে সাধারণ মানুষের ‘মুখ’। এবার এআইয়ের সাহায্যে আধার-প্যান কার্ড বানানোর নতুন প্রবণতা সেই ঝুঁকি আরও বাড়াবে বলে দাবি ওয়াকিবহাল মহলের।
গত সপ্তাহেই নতুন এআই টুল ‘জিপিটি-৪ও’ বাজারে এনেছে ওপেনএআই। নতুন এই প্রযুক্তির আরও নিখুঁত ‘ইমেজ জেনারেশন’ ক্ষমতা নিয়ে সংস্থাটি ফলাও করে প্রচার করেছে। আত্মপ্রকাশের দিন থেকে এটি ব্যবহার করে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৭০ কোটি ছবি তৈরি করেছে নেট-নাগরিকরা। ঘিবলি স্টুডিওর অ্যানিমেশন থেকে শুরু করে মধ্যযুগের তৈলচিত্রের আদল... কী নেই সেই তালিকায়। সেই সব ছবিতে ছেয়ে গিয়েছে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম।
শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হয় নতুন ট্রেন্ড। এআই নির্মিত আধার ও প্যান কার্ডের ছবি ফেসবুক-এক্স হ্যান্ডলে দিতে শুরু করেন অসংখ্য ব্যবহারকারী। অনেকেরই কার্ডে নিজের ছবি রয়েছে। কেউ কেউ আবার পোস্ট করেছেন মার্কিন ধনকুবের এলন মাস্ক, ওপেনআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা স্যাম অল্টম্যান, এমনকী গণিতজ্ঞ আর্যভট্টের ছবি দেওয়া আধার কার্ডও।
চ্যাটজিপিটির এই ‘ইমেজ জেনারেশন’-এর অপব্যবহারের অনেকগুলি দিক রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম কপিরাইট সমস্যা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের ঝুঁকি, সামাজিক সম্মানহানির আশঙ্কা। সেই কারণে ব্যবহারকারীদের সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিয়েছে খোদ ওপেনএআই।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর মাধ্যমে সহজেই ভুয়ো তথ্য ছড়ানো সম্ভব। এই ধরনের ভুয়ো আধার কার্ড ব্যবহার করে যে কেউ আসল পরিচয় লুকিয়ে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটাতে পারে। এর পাশাপাশি ব্যক্তি গোপনীয়তা লঙ্ঘনের বিষয়টিও রয়েছে। ব্যবহারকারীরা যদি নিজেদের বা প্রিয়জনের ছবি আপলোড করে তা ‘স্টাইলাইজ’ বা বদল করতে চান, তাহলে সেই ডেটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এআই টুলের ট্রেনিং বা প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হতে থাকে। ব্যবহারকারীরা এব্যাপারে সচেতন থাকেন না। ফলে তাঁদের অজান্তেই বৃহত্তর অনলাইন ডেটাবেস বা তথ্যভাণ্ডারে যুক্ত হয়ে পড়ে ব্যক্তিগত ছবি।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন