সিন্ধু চুক্তি স্থগিত, জলে পড়বে পাকিস্তান? - Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel is currently West Bengal's leading, popular, authentic and trustworthy digital media. Aaj Bikel News has become the voice of crores of readers and viewers.

শুক্রবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৫

সিন্ধু চুক্তি স্থগিত, জলে পড়বে পাকিস্তান?

সিন্ধু চুক্তি স্থগিত, জলে পড়বে পাকিস্তান?

নয়াদিল্লি: পহেলগাঁওয়ে জঙ্গিদের নরসংহারের পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ ব্যবস্থা নিয়েছে ভারত। এরমধ্যে রয়েছে সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিতের সিদ্ধান্ত। এই ঘটনায় পাকিস্তানের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এনিয়ে নানান জল্পনা ঘোরাফেরা করছে। অনেকেই দাবি করছেন, এবার জলের অভাবে শুকিয়ে মরবে পাকিস্তান। কিন্তু সেটাই কি বাস্তব? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে পাকিস্তানের উপর এর বড়সড় প্রভাব পড়লেও আপাতত এই পদক্ষেপ মনস্তাস্ত্বিক চাপ বাড়ানোর কৌশল। 
বেশ কয়েক বছরের আলোচনার পর ১৯৬০ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। দু’দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নদীগুলির জলের বণ্টন নিয়ে এই সমঝোতা। দুটি দেশই মূলত কৃষিপ্রধান। কৃষি ও সেচের জন্য নদনদীর উপর নির্ভরশীল। চুক্তি অনুযায়ী, শতদ্রু, বিপাশা ও ইরাবতী নদীর জল ব্যবহারে অবাধ অধিকার ভারতের। আর সিন্ধু, ঝিলম ও চন্দ্রভাগা নদীর জল পাবে পাকিস্তান। নদীগুলির নিম্ন অববাহিকায় রয়েছে পাকিস্তান। কাজেই এই ভৌগোলিক অবস্থান তাদের কাছে অসুবিধার কারণ। সিন্ধু, ঝিলম ও চন্দ্রভাগা-এই তিনটিরই উৎস পাকিস্তান নয়। তাই প্রতিবেশী দেশের সিন্ধু জলচুক্তির উপর নির্ভরতা অনেকটাই বেশি। ওই নদ-নদীগুলির জলের ৮০ শতাংশ পায় তারা। পাঞ্জাব ও সিন্ধুপ্রদেশে কৃষি ও সেচের জন্য তা কার্যত লাইফলাইন। 
এমনিতেই জলস্তর হ্রাসের সমস্যার সঙ্গে যুঝতে হচ্ছে পাকিস্তানকে। করাচির মতো শহরে বেসরকারি জলট্যাঙ্কের উপর নির্ভরতা বেড়ে গিয়েছে। এই অবস্থায় সিন্ধুর জলপ্রবাহে কোনও ব্যাঘাত ঘটলে তার ক্ষতিকারক প্রভাব পড়বে ফসল উৎপাদনে। এরফলে দেখা দেবে খাদ্যের অভাব। কাজেই তা সেদেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে আরও অস্থির করে তুলবে। 
যদিও ভারতের চুক্তি স্থগিতের কোনও প্রভাব এখনই পড়বে না। আর এতে এখন থেকেই পাকিস্তানে জলপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যাবে, এমনটা কিন্তু নয়। কারণ, জলপ্রবাহ বন্ধ করা বা ঘুরিয়ে দেওয়ার  মতো পরিকাঠামো ভারতের নেই। খুব বেশি হলে ৫-১০ শতাংশ জলপ্রবাহ বন্ধ করতে পারে। ওই চুক্তিতে সিন্ধু,ঝিলম ও চন্দ্রভাগার উপর ভারতের বাঁধ নির্মাণে নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তবে স্বাভাবিক জলপ্রবাহকে ব্যবহার করে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কোনও বাধা নেই। এর অর্থ, জলপ্রবাহকে রুদ্ধ না করে এমন প্রকল্প গড়া যেতে পারে। চুক্তি স্থগিত রাখার অর্থ, ভারত এসব নিয়ন্ত্রণ নাও মানতে পারে। বাঁধ ও জলাধার তৈরির কাজ শুরু করতে পারে। যদিও বড় বাঁধ ও জলাধার গড়তে বেশ কয়েক বছর লাগবে। তার আগে পরিবেশগত প্রভাব খতিয়ে দেখতে হবে। এজন্য প্রয়োজন বিস্তারিত সমীক্ষা। সেই সঙ্গে থাকতে হবে অর্থ সংস্থান।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন