নয়াদিল্লি: সামাজিক, রাজনৈতিক, আর্থিক অথবা জিও পলিটিক্যাল যে কোনও অস্থিরতার সম্ভাবনায় সর্বাগ্রে পূর্বাভাস দেয় শেয়ার বাজার। তেমনটাই হল। গোল্ডম্যান স্যাক্স, এস অ্যান্ড পি, জে পি মরগ্যান, এইচএসবিসির মতো প্রথম সারির আন্তর্জাতিক আর্থিক সমীক্ষক সংস্থার পূর্বাভাস ছিল— ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বেচ্ছাচারী শুল্ক যুদ্ধের জেরে ৯ মাসের মধ্যে বিশ্বকে গ্রাস করতে চলেছে মহামন্দা। ২০০৮ সালের মন্দাকেও ছাপিয়ে যেতে চলেছে ওই সঙ্কট। আর ঠিক তারপরই গোটা বিশ্বের শেয়ার বাজার মুখ থুবড়ে পড়েছে সোমবার। স্টক মার্কেটের ভাষায় ‘ব্ল্যাক মানডে’। ভারতে এদিন বাজার খোলা মাত্র মাত্র ১০ সেকেন্ডে উধাও হয়ে যায় লগ্নিকারীদের ২০ লক্ষ কোটি টাকা। দিনের শেষে বাজার বন্ধের সময় অবশ্য খানিকটা সামলে অঙ্কটা থেমেছে প্রায় ১২ লক্ষ কোটি টাকায়। সেনসেক্সের পতন ৩ শতাংশ। হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচকের পতন ভয়াবহ, ১১ শতাংশ। জাপানের নিক্কেই ৭ শতাংশ। অস্ট্রেলিয়া শেয়ার বাজারে শুধু বিপর্যয় নয়, তাদের ডলার পর্যন্ত মুখ থুবড়ে পড়েছে। জার্মানির ডাক্স সূচক সাড়ে ৬ শতাংশ ধসে গিয়েছে। ব্রিটেন থেকে ফ্রান্স, সর্বত্র একই চিত্র। লক্ষ লক্ষ কোটি ডলারের লোকসানে বিশ্ব অর্থনীতি এক ধাক্কায় চরম সঙ্কটে।
আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম এদিন ব্যারেল প্রতি ৬০ ডলারে নেমে গিয়েছে। যাদের জন্য এই আর্থিক বিপর্যয়, সেই আমেরিকার ন্যাসডাক সূচকের পতনও সাড়ে ৫ শতাংশ। যাবতীয় আর্থিক সমীক্ষক সংস্থার পূর্বাভাস হল, বিশ্বজুড়ে মুদ্রার পতন ঘটবে। আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের ছন্দ সম্পূর্ণ ভারসাম্যহীন হয়ে যাবে। যে মহা আর্থিক মন্দা আসতে চলেছে, তার সবথেকে বড় প্রভাব পড়বে খোদ আমেরিকায়। এই সম্ভাবনার প্রশ্নেও নিজের অবস্থানে অনড় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। উল্টে এদিন তিনি চীনের উপর আরও ৫০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক চাপানোর হুমকি দিয়েছেন। সাফ বলেছেন, ‘বড়সড় অসুখ সারাতে আগে মেডিসিন দিতে হয়। আমি একটু মেডিসিন দিয়েছি। সব ঠিক হয়ে যাবে। তেলের দাম কমেছে। সুদের হার কমেছে। খাদ্যপণ্যের দাম কমেছে। কোনও মুদ্রাস্ফীতি নেই।’ যদিও ট্রাম্প আমেরিকাকে অন্ধকার সুড়ঙ্গের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন, এই অভিযোগ তুলে বিগত ৪৮ ঘণ্টা ধরে আমেরিকার সমস্ত বড় শহরে চলছে প্রবল গণবিক্ষোভ, মহামিছিল, প্রতিবাদের ঝড়। এমনকী এদিন মার্কিন বহুজাতিক সংস্থাগুলির পক্ষ থেকেও ট্রাম্প বিরোধী অবস্থানের আঁচ পাওয়া গিয়েছে। কারণ, বহুজাতিক কর্পোরেটের কাছে আর্থিক মন্দাই প্রধান উদ্বেগ। প্রশ্ন উঠছে এসবের পরেই কি আসছে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্টের দাবি? সোজা কথায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের উপর ঘরে ও বাইরে চাপ প্রবলভাবে বাড়ছে। শোনা যাচ্ছে, শুল্কযুদ্ধ থেকে পিছু হটতেও পারেন ট্রাম্প। মুখরক্ষার ফর্মুলা খুঁজছেন।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন