নয়াদিল্লি: অবশেষে বাস্তবায়িত হতে চলেছে মোদি সরকারের বহু প্রতীক্ষিত ‘ওয়ান স্টেট, ওয়ান রিজিওনাল রুরাল ব্যাঙ্ক’ নীতি। অর্থাৎ, একটি রাজ্যে এবার একটিই গ্রামীণ ব্যাঙ্ক থাকবে। আপাতত দেশের ১১টি রাজ্যের ১৫টি গ্রামীণ ব্যাঙ্কের একত্রীকরণ করে দিল কেন্দ্র। ১ মে থেকে বিষয়টি চালু করার কথা জানিয়ে গেজেট নির্দেশিকাও জারি করেছে অর্থমন্ত্রক। আগে গোটা দেশে গ্রামীণ ব্যাঙ্কের সংখ্যা ছিল ১৯৬। পরে সেটা কমে ৪৩ হয়। এবার চতুর্থ দফার একত্রীকরণে সেটাকেই আরও কমিয়ে মাত্র ২৮টি করল মোদি সরকার।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, অন্ধ্রপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, গুজরাত, জম্মু ও কাশ্মীর, কর্ণাটক, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, ওড়িশা এবং রাজস্থানের আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাঙ্কগুলির একত্রীকরণ করা হবে। যেমন— অন্ধ্রপ্রদেশের চৈতন্য গোদাবরী গ্রামীণ ব্যাঙ্ক, অন্ধ্র প্রগতী গ্রামীণ ব্যাঙ্ক, সপ্তগিরি গ্রামীণ ব্যাঙ্ক এবং অন্ধ্রপ্রদেশ গ্রামীণ বিকাশ ব্যাঙ্ককে একত্রে জুড়ে দেওয়া হবে। যার নাম হবে অন্ধ্রপ্রদেশ গ্রামীণ ব্যাঙ্ক। পৃষ্ঠপোষকতার দায়িত্বে থাকবে ইউনিয়ন ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া। ব্যাঙ্কের সদর দপ্তর হবে অমরাবতীতে। পশ্চিমবঙ্গে রয়েছে তিনটি গ্রামীণ ব্যাঙ্ক— বঙ্গীয় গ্রামীণ বিকাশ ব্যাঙ্ক, পশ্চিমবঙ্গ গ্রামীণ ব্যাঙ্ক এবং উত্তরবঙ্গ ক্ষেত্রিয় গ্রামীণ ব্যাঙ্ক। এই তিনটিকে মিশিয়ে হবে পশ্চিমবঙ্গ গ্রামীণ ব্যাঙ্ক। কলকাতায় হবে তার সদর দপ্তর। আর পৃষ্ঠপোষকতার দায়িত্বে থাকবে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক।
কেন্দ্রের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত গোটা দেশের গ্রামীণ ব্যাঙ্কে জমা পড়েছে প্রায় ৬.৬ লক্ষ কোটি টাকা। তবুও এই একত্রীকরণের উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি নাবার্ড, স্টেট ব্যাঙ্ক, কানাড়া ব্যাঙ্ক, পাঞ্জাব ন্যাশনালের মতো আটটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের সঙ্গে বৈঠক করে অর্থমন্ত্রক। তারপরই ঠিক হয়, বর্তমানের ৪৩টি গ্রামীণ ব্যাঙ্কের মধ্যে ১৫টিকে একছাতার তলায় নিয়ে আসা হবে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন