ওয়াশিংটন: আমেরিকা-চীন শুল্ক যুদ্ধে উত্তেজনার পারদ আরও একধাপ চড়ল। সৌজন্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর হুঁশিয়ারিতে বেজিং পিছু না হটায় চীনা পণ্যে করের পরিমাণ আরও ৫০ শতাংশ বাড়ালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ফলে নয়া হার দাঁড়াল ১০৪ শতাংশ। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, বুধবার থেকেই নয়া কর চালু হবে। শুল্ক-দ্বৈরথ নিয়ে এদিন পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে চীনও। মঙ্গলবার কর সংক্রান্ত মার্কিন ঘোষণার আগেই বেজিং সাফ জানিয়েছে, ‘আমেরিকা যদি এভাবেই চলতে চায়, তাহলে চীনও এর শেষ দেখে ছাড়বে। ভুলের পর ভুল করছে আমেরিকা।’
শুল্ক যুদ্ধের শুরুটা করেছিলেন ট্রাম্পই। গত মাস পর্যন্ত চীনা পণ্যে ১০ শতাংশ মতো কর দিতে হতো আমেরিকায়। কিন্তু, মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয়বার মসনদে বসার পরই সমস্ত দেশের উপর পাল্টা কর চাপানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সেইমতো ২ এপ্রিল চীনা পণ্যে ৩৪ শতাংশ অতিরিক্ত কর আরোপ করে আমেরিকা। সেই ঘোষণার কিছুক্ষণের মধ্যে আরও ১০ শতাংশ শুল্কের কথা জানায় হোয়াইট হাউস। ফলে চীন থেকে আমেরিকায় আমদানি করা সামগ্রীতে করের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ৫৪ শতাংশ। মার্কিন প্রশাসনের এই পদক্ষেপের পরে চীনও পাল্টা বাড়তি শুল্ক চাপানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
সেইমতো তারা ৩৪ শতাংশ কর ধার্য করে। তাতে ক্ষোভে ফেটে পড়েন ট্রাম্প। ভারতীয় সময় মঙ্গলবার ভোরে তিনি হুঁশিয়ারির সুরে জানান, এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করলে বুধবার মধ্যরাত থেকেই চীনা সামগ্রীতে আরও ৫০ শতাংশ কর আরোপ করবে আমেরিকা। বেজিং পিছু না হটায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাতে সিলমোহর দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। শুল্ক-যুদ্ধ চরমে পৌঁছলেও চীনের জন্য দরজা খোলা রেখেছেন ট্রাম্প। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে তিনি লিখেছেন, চীনও আমাদের সঙ্গে বোঝাপড়া করতে চাইছে। কিন্তু, ওরা জানেই না, কীভাবে কথাবার্তা শুরু করতে হয়। ওদের ফোনের অপেক্ষায় রয়েছি।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন