কলকাতা: ডিরেক্টর জেনারেল অ্যান্ড ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিস (ডিজি অ্যান্ড আইজিপি) বাছাই ও নিয়োগ বিষয়ক স্বাধীন নিয়মাবলী তৈরির উদ্যোগ নিল নবান্ন। মঙ্গলবার যা নিয়ে রাজ্য মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সূত্রের খবর, বিশেষ পরিবেশ পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষা করে আগামীদিনে পুলিস প্রধান নিযুক্ত করতেই এই সিদ্ধান্ত। এই নিয়মাবলী তৈরির জন্য একটি মনোনয়ন কমিটিও গঠন হবে। যার চেয়ারপার্সন হবেন কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত একজন বিচারপতি। সদস্য থাকবেন রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, ইউপিএসসি’র মনোনীত একজন আধিকারিক, পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ বাহিনীর ডিজিপি হিসেবে কাজ করেছেন এমন একজন অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিক সহ অন্যান্যরা।
প্রসঙ্গত, দেশের সমস্ত রাজ্য পুলিসের প্রধান বা ডিজিপি’র এমপ্যানেলমেন্টের দায়িত্ব ইউপিএসসি’র। ফলে এই ক্ষেত্রে কেন্দ্রের মুখাপেক্ষী হয়েই থাকতে হয় রাজ্যগুলিকে। সেই ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই পদক্ষেপ কার্যত নজিরবিহীন বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তবে ২০২৪ সালের নভেম্বরে ডিজি পদে বাছাইয়ের জন্য রাজ্যের অধীনেই সিলেকশন কমিটি গঠন করার নতুন নিয়ম এনেছে উত্তরপ্রদেশের যোগী সরকার। উল্লেখ্য বর্তমানে বাংলায় রাজীব কুমার ভারপ্রাপ্ত ডিজি হিসেবে কাজ করছেন। তার চাকরির মেয়াদ রয়েছে ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারী পর্যন্ত।
অপরদিকে রাজ্য পুলিসের অধীনে পদকজয়ী খেলোয়াড়দের সাব ইন্সপেক্টর (সশস্ত্র শাখা), অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইন্সপেক্টর (সশস্ত্র শাখা) এবং ইন্সপেক্টর অবপুলিস (সশস্ত্র শাখা) পদে সরাসরি নিয়োগ সংক্রান্ত নিয়মাবলী প্রণয়নের প্রস্তাব আনারও এদিন সিদ্ধান্ত হয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে।
অন্যদিকে, বাংলায় ২৬ হাজারের চাকরি যাওয়া নিয়ে সমাজ মাধ্যমে রাজ্যের বিরুদ্ধে বিরোধী শিবিরের কুৎসা ছড়ানো নিয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বলেই সূত্রের খবর। সিপিএম’র রাজ্যসভার সাংসদ তথা আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের প্রসঙ্গ উত্থাপন করে রাজ্যের মন্ত্রীদের এই সমস্ত কুৎসার বিরুদ্ধে সমাজ মাধ্যমকেই ব্যবহার করার নিদান দেন মুখ্যমন্ত্রী। কিছু মন্ত্রী সমাজ মাধ্যম ব্যবহার করে এই সমস্ত কুৎসার জবাব দিলেও, অনেকেই বিরত থাকছেন। এমনটা বরদাস্ত করা হবে না বলেও তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। সেই সঙ্গে সমস্ত দপ্তরের মামলা সংক্রান্ত বিষয় নজরদারির জন্য অরূপ বিশ্বাস, ফিরহাদ হাকিম, ব্রাত্য বসু, মলয় ঘটক, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও শশী পাঁজাকে নিয়ে একটি মন্ত্রিগোষ্ঠীও তৈরি করে দিয়েছেন তিনি। এই কমিটিতে মুখ্যসচিব মনোজ পন্থও থাকবেন বলেও জানা গিয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন